ব্রিটেন থেকে ২৪টি টাইফুন জেট কিনতে চায় কাতার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২১:১৩
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা গোষ্ঠী বিএই সিস্টেমসের কাছ থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক টাইফুন জঙ্গি বিমান কিনতে চেয়ে লেটার অব ইন্টেন্টে স্বাক্ষর করেছে উপসাগরীয় দেশ কাতার। এই পদক্ষেপ দোহার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা দেশগুলোকে ক্ষিপ্ত করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
 
সন্ত্রাসবাদে সহযোগিতা ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের অজুহাতে চলতি বছরের ৫ জুন থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও বাহরাইন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্কচ্ছেদ করে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ কাতারের সঙ্গে আকাশ ও নৌ যোগাযোগও বন্ধ করে দেয় ওই দেশ চারটি । মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি থাকা কাতার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তুরস্ক কাতারের সমর্থনে দেশটিতে থাকা তাদের ঘাঁটিতে আরও সৈন্য পাঠিয়েছে। উপসাগরে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের এই যুদ্ধবিমান কেনার খবর এলো। 
 
‘লেটার অব ইন্টেন্টে সব আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতিসহ ২৪টি অত্যাধুনিক টাইফুন এয়ারক্রাফট কেনার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অভিপ্রায় প্রকাশ পেয়েছে,’ রবিবার এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানায় কাতার নিউজ এজেন্সি। কাতারের প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী খালিদ বিন মোহাম্মদ আল আতিয়াহ ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফেলনের সঙ্গে এ সংক্রান্ত এক চুক্তি স্বাক্ষর করেন বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। 
 
পরে এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ‘এটি হবে যুক্তরাজ্যের অন্যতম কৌশলগত অংশীদার কাতারের সঙ্গে প্রথম কোনো বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি। আমরা আরও আশা করছি এই চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের সব মিত্রের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।’ চুক্তির সব বিষয়ে আলোচনা শেষ হতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
 
বিএই, ফ্রান্সের এয়ারবাস ও ইতালির ফিনমেক্কানিকার যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্প ইউরোফাইটার টাইফুন যুক্তরাজ্যে অন্তত ৪০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। কাতার এবং যুক্তরাজ্য কোনো পক্ষের বিবৃতিতেই জঙ্গি বিমান কিনতে কত খরচ হচ্ছে তা বলা হয়নি। এর আগে ২০১৪ সালে সৌদি আরবের কাছে ৪৪৩ কোটি পাউন্ডের বিনিময়ে ৭২টি টাইফুন জঙ্গি বিমান বেচতে সম্মত হয়েছিল বিএই। শনিবার লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে ফেলন বলেছিলেন, বিএই সিস্টেমস যেন আরও টাইফুন বেচতে পারে সেজন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে তার সরকার। রয়টার্স। 
 
ইত্তেফাক/সাব্বির