লালপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জলাবদ্ধতা, দুই মাস ধরে বন্ধ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৫২
 
প্রবেশ পথে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্র গত দুই মাস ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে। সড়কের ধারের একটি বাড়ির বেডরুমে চলছে চিকিৎসাসেবা প্রদান।
 
এলাকাবাসী জানায়, অপরিকল্পিতভাবে একটি রাস্তা ও খাস জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ইট ভাটার কয়েক গাড়ি রাবিশ (উচ্ছিষ্ট) ফেলে অনায়াসেই হাসপাতালে যাওয়ার সরু পথ তৈরি করে সেখানেই চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার অভাবকেই দায়ী করেন এলাকাবাসী।
 
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রের সামনে সড়কের পাশে একটি বাড়ির বেড়রুমে একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন এমএলএসএস দিয়ে চলছে ওই স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা। কোন ডাক্তার সেখানে নেই। নেই পরিবার কেন্দ্রের কোন কর্মীও। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো সেখানে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন মেডিকেল এসিস্টেন্ট, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন আয়া ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একজন ভিজিটর এর পদ রয়েছে। কর্তব্যরত ফার্মাসিস্ট এসএম কামাল নুর জানালেন তিনি ও একজন এমএলএসএস নিয়মিত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিদিন শতাধিক রোগী সেখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল অফিসার, আয়া ও ভিজিটরের পদ শূন্য রয়েছে। একজন মেডিকেল এসিস্টেন্ট রয়েছেন তিনি সপ্তাহে তিন দিন দায়িত্ব পালন করেন বাকি তিনদিন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বসেন।
 
হাসপাতালের প্রবেশ পথে জলাবদ্ধতার সম্পর্কে এসএম কামাল নুর জানান, এবছর বর্ষার শুরুতেই হাসপাতাল গেটে পানি জমেছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। হাসপাতাল ছেড়ে মানুষের বাড়িতে ওষুধপত্র নিয়ে রোগী দেখার কাজ করছি। সিঁড়ি থেকে হাসপাতালে প্রবেশ পথের প্রায় ৭০ ফুট জায়গায় হাঁটু পানি জমে আছে।
 
এব্যাপারে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আনছারুল হক জানান, বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রের সামনের জলাবদ্ধতার বিষয়টি উপজেলার মাসিক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। পানি শুকিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান রাস্তা টুকু উঁচু করে দেবেন। এব্যাপারে লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে শিগগীরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/জামান