দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ানকে তার পদ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সোমবার রাতে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বহিষ্কার সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিও পাওয়া গেছে।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সোমবার রাতে রূপগঞ্জের মুড়াপারা ফেরিঘাট থেকে অসীম নামে এক ব্যক্তিকে গুলিভর্তি একটি বিদেশি রিভলবার ও অপহৃত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীসহ আটক করে পুলিশ। অসীম বরিশাল সদর উপজেলার দাড়িয়াল এলাকার কামরুল দেওয়ানের ছেলে। এ ঘটনায় এসআই বাদশা আলম বাদী হয়ে অপহরণ ও অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলার বাদী জানান, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ওই ছাত্রী বাস করতেন। সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় ফিরছিলেন তিনি। বসুন্ধরা বড় মসজিদের সামনে পৌঁছামাত্র একটি প্রাইভেটকারে অসীম দেওয়ানসহ কয়েকজন অপহরণকারী ওই ছাত্রীকে তুলে নেয়। এরপর রাজধানীর ভাটারা থানা পুলিশ অপহরণের বিষয়টি বিভিন্ন এলাকার র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানায়।
রাত ১০টার দিকে ফেরিঘাটে অপহরণকারীরা ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। মেয়েটি আত্মচিত্কার শুরু করলে তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকি দেয় অসীম। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ অসীমকে আটক ও মেয়েটিকে উদ্ধার করে। অসীম দেওয়ানের কোমরে থাকা পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি রিভলভার উদ্ধার করা হয়। তবে তার দুই সহযোগী পালিয়ে যায়।
প্রাইভেটকার চালক লিটন মিয়া জানান, ভাড়া হিসেবে তার প্রাইভেটকারটি নেওয়া হয়। যখন অপহরণের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হন তখন পথিমধ্যে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেন তিনি। এসময় অপহরণকারীরা তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। অস্ত্রেরমুখে জিম্মি করে গাড়ি চালাতে বাধ্য করে। অপহৃত ছাত্রীর বাবা বলেন, অসীম প্রায়ই আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতো। সে তার মেয়েকে অপহরণ করে হত্যা করার জন্য। রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, আসামীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি অপহরণকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ইত্তেফাক/এমআর
