Should he show pity, and not slay,
But set me free, my liberty,
It is the law
কবিতার লাইনগুলো বার্মিজ কবি অনন্ত তূর্যের The Law of Nature কবিতার ইংরেজি অনুবাদ। বার্মিজ স্বদেশি ভাষায় রচিত প্রথম কবিতা ধরা হয় অনন্ত তূর্যের এ কবিতাটিকে। যা রচিত হয়েছিল তত্কালীন রাজতান্ত্রিক অত্যাচারের প্রতিবাদে। অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে, মুক্তি ও স্বাধীনতার জয়গান নিয়ে যে কবিতা একটি ভাষার সাহিত্যের ভিত রচনা করে, সে ভাষার অধ্যুষিত জনতা আজ আর্ত-মানবতার বিপক্ষে।
গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কর্তৃক পুলিশের চেকপোস্টে হামলার পরে দেশটির সেনাবাহিনী চড়াও হয় তাদের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর। নিপীড়ন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মুখে পড়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে থাকে সংখ্যালঘু এই সম্প্রদায়টি। ফলস্বরুপ, বানের পানির মতো মানুষ ভেসে আসতে শুরু করে বাংলাদেশে। এ পর্যন্ত আসতে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ। অনিচ্ছাসত্ত্বেও মিয়ানমারের ঘরোয়া এই ইস্যুটিতে জড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। বিশ্বরাজনীতিও চাইছে এই ইস্যুটিতে বাংলাদেশকে একটি পক্ষ বানাতে। অথচ বিষয়টি পুরোপুরিভাবে মিয়ানমারের একটি ঘরোয়া ব্যাপার।
এদিকে শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারে একটি দ্বীপে জায়গা করে দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। তবে শরণার্থী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ থাকার জায়গা করে দেওয়া হবে মিয়ানমারের একটি সুযোগ, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের এদেশে ঠেলে দেওয়ার। কিন্তু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল একটি দেশের পক্ষে এমন বড় একটি জনগোষ্ঠীর ভার বহন করা খুবই কষ্টসাধ্য। অথচ সম্পদ ও অবস্থানের তুলনায় বাংলাদেশের চেয়ে শতগুণ ভালো অবস্থানে আছে মিয়ানমার।
অন্যদিকে সমস্যা সমাধানে কোনো হস্তক্ষেপ আসছে না পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো থেকে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি লিখেছেন শান্তিতে নোবেলবিজয়ী ১২জন। এখানেও কোনো আশানুরূপ ফল আসেনি জাতিসংঘ থেকে। মূলত মিয়ানমার দেশটির বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে। সেখানে সে দেশটিকে কে কত সুবিধা দিতে পারে তার প্রতিযোগিতায় চলছে তাদের মাঝে। গণতন্ত্রের নামে যে সেনাতন্ত্র কায়েম হচ্ছে দেশটিতে, তাকে পশ্চিমারা গণতন্ত্র বলে সার্টিফিকেট দিচ্ছে কী করে?
পরিশেষে, মানবতাকে সংকটে ফেলা এই সমস্যার সমাধান হিসেবে বলতে পারি—সমাধান আসলে পুরোটাই নির্ভর করে মিয়ানমারের ওপর। ব্যাংকক পোস্ট পত্রিকায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নেগিন পাও লিখেছেন—রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান পুরোটাই নির্ভর করে মিয়ানমার সরকার, সেনাবাহিনী ও দেশটির সুশীল সমাজের ওপর। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে পড়ে ২০১৬ সালে গঠিত ‘রাখাইন এডভাইজরি কমিশন’ ও ‘কফি আনান কমিশন’-এর সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নই এ ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফল আনবে আশা করি।
শেখ ফাহিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ইত্তেফাক/আনিসুর
