রাবি শিক্ষক ‘আত্মহত্যা’: চার্জশিটে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৮:৫০
 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর (আত্মহত্যা) ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার চার্জশিট নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা। ওই বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
 
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, সহযোগী অধ্যাপক মশিহুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
 
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আকতার জাহানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলার যে চার্জশিট মতিহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা ব্রজগোপাল কর্মকার জমা দিয়েছেন তা সঙ্গত কারণেই আমাদের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকদের ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত করেছে।
 
কারণ ওই চার্জশিটে আমাদের না জানিয়ে এবং কথা না বলেই সাত শিক্ষককের নামে ১৬১ ধারায় যে জবানবন্দি দাখিল করা হয়েছে, তা সত্য নয়। নানা রকম বিভ্রান্তিকর তথ্য সহযোগে তা উপস্থাপন করা হয়েছে।
বস্তুত আমরা কেউ কখনও জবানবন্দি দেই নাই। অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের সাত শিক্ষকের নামে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি চার্জশিটে দেওয়া হয়েছে।
 
বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দিকে নজর না দিয়ে বরং আমাদের সহকর্মীদের অসম্মানিত ও হেয় করেছেন।’
 
ব্রজগোপাল কর্মকার বলেন, ‘এক বছর তদন্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আমি একা কথা বলিনি, আমার সঙ্গে সিনিয়র অনেক অফিসার কথা বলেছেন ও তদন্ত করেছেন।’
 
এদিকে চার্জশিট নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সকালে বিভাগের সামনে মানববন্ধন করেছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
 
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবন থেকে অচেতন অবস্থায় শিক্ষক আকতার জাহানকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিন তার কক্ষ থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর মতিহার থানায় ‘আত্মহত্যা’র প্ররোচণার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন তার ছোট ভাই কামরুল হাসান। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৫ আগস্ট একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতিকুর রহমান রাজাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ব্রজগোপাল কর্মকার।
 
ইত্তেফাক/ আরকেজি