মুকসুদপুর ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ভাজন্দী কুমার নদীর উপর একটিমাত্র সেতুর অভাবে ৫০ গ্রামের বাসিন্দা যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ফলে এ দুর্ভোগ এড়াতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে এখানে বাঁশের সাঁকো তৈরি করছে।
এলাকাবাসী জানায়, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা ও ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ৫০ গ্রামের বাসিন্দাদের মুকসুদপুর ও ভাঙ্গা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম বাঁশের সাঁকোটি স্বেচ্ছাশ্রমে পুনঃ তৈরি করছে গ্রামবাসী। সেই ব্রিটিশ আমলে কুমার নদী খননের পর থেকে ওই ৫০ গ্রামের মানুষ বাঁশের সাঁকোয় কুমার নদী পার হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ, রোগী ও শিক্ষার্থীরা হাট-বাজার, স্কুল, হাসপাতাল, মাদ্রাসায় এ সাঁকোতে করেই যাতায়াত করছেন। এতে কৃষকের পণ্য পরিবহনসহ সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। মুমূর্ষু রোগী নিয়ে গ্রামবাসীদের কষ্টের সীমা থাকে না।
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার ভাজন্দী ও ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার রাজেশ্বরদী বাজারকে বিভক্ত করেছে কুমার নদী। এ নদীতে খেয়া নৌকা পারাপারে অধিক সময় লাগার কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেয়া নৌকা পারাপার। পরে গ্রামবাসীরা প্রতি বছরই স্বেচ্ছাশ্রমে এই নদীতে বাঁশের সাঁকো স্থাপন করে আসছে। তারপর থেকে এ দু’ উপজেলার ২২ কাশিমপুর, রাজেশ্বরদী, বিবিরকান্দা, নরারকান্দি, ফুলতলা, মুজরাইকান্দি, কৃষ্টপুর, ভাজন্দী, দিগনগর, বাগাট, নিশ্চিন্তপুরসহ ৫০ গ্রামের মানুষের চলাচলে একমাত্র অবলম্বন হয়ে উঠেছে এ বাঁশের সাঁকো।
মুকসুদপুর ও ভাঙ্গা উপজেলা সদরে রয়েছে ব্যাংক, বীমা, অফিস-আদালত ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ভাঙ্গা উপজেলার গ্রাম থেকে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ শ’ শ’ মানুষ ভাজন্দী বাজার ও উপজেলা সদরে আসেন। এছাড়া ভাঙ্গা উপজেলার ওই গ্রামগুলোর মানুষ চিকিত্সা সেবা নিতে মুকসুদপুর ও ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভর করেন।
ভাঙ্গা উপজেলার রাজেশ্বরদী গ্রামের নূর আমিন ও লুত্ফর রহমান বলেন, দুই উপজেলার অন্তত ২২ কশিমপুরসহ ৫০টি গ্রামের মানুষ ভাজন্দী হাটে আসেন। সাঁকো পার হতে গিয়ে গত ৩ সেপ্টেন্বর ধসে গিয়ে ১০জন লোক আহত হয়। এছাড়া মুমূর্ষু রোগী পারাপারে দুর্ভোগের সীমা থাকে না।
এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য আমরা গ্রামবাসী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করছি।
ইত্তেফাক/নূহু
