সাতক্ষীরায় মাদ্রাসা সুপার হত্যা: মামলার বাদীর বাড়িতে ভাঙচুর

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪:৩১
 
সাতক্ষীরায় মাদ্রাসা সুপার মাও. সাঈদুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দুই এসআইসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে দুর্বৃত্তরা মামলার বাদীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
 
মামলা তুলে না নিলে বাড়ির সবাইকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। শুক্রবার ভোর রাত তিনটার দিকে সদর উপজেলার কাথণ্ডা গ্রামের মামলার বাদী বজলুর রহমানের বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।
 
এ সময় দুর্বৃত্তরা বাদীর বাড়িতে ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট ও একটি দামী মোবাইল ছিনিয়ে নেয়াসহ বাদী বজলুর রহমানের ছেলে রাকিবুজ্জামানকে ব্যাপক মারটি করে। মামলা তুলে না নিলে বাদীর স্ত্রীকে বিধবা, বোনকে পিতা-মাতা হারা ও ছেলেকে জীবননাশের হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
 
মামলার বাদী বজলুর রহমানের ছেলে রাকিবুজ্জামান জানান, প্রথমে ১০/১৫ জন দুর্বৃত্ত আমাদের বাড়িতে যেয়ে আমার বাবাকে ডাকা ডাকি করতে থাকে। এ সময় ঘরের ভিতর থেকে বলা হয় তিনি বাড়িতে নেই। এরপর তারা প্রথমে বারান্দার গ্রিল ভেঙে ফেলে। পরে দরজায় আঘাত করে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। প্রবেশের পর মামলার বাদী আমার বাবা বজলুর রহমানকে না পয়ে আমাকে (রাকিবুজ্জামানকে) ব্যাপক মারপিট করে। আমি তখন বলি, আমি অনেক অসুস্থ, আমাকে মারবেন না। তখন দুর্বৃত্তরা বলে তোর বাপকে মামলা তুলে নিতে বল নইলে তোকে মেরে ফেলবো।সন্ত্রাসীদের মাথায় সবারই হেলমেট পরা ছিল ও তাদের সাথে তিনজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন বলে বাদীর স্ত্রীসহ তারা জানান।
 
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মারুফ আহম্মেদ জানান, এ ঘটনা আমার জানা নাই।
 
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরায় পুলিশের নির্যাতনে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাদ্রাসা সুপার মাও. সাঈদুর রহমান। এ ঘটনায় পুলিশের দুই এসআইসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা আমলী আদালত-১ এ গত ২০ সেপ্টেম্বর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই বজলুর রহমান। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত পূর্বক ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পিবিআই খুলনাকে নির্দেশ দেন।
 
ইত্তেফাক/জামান