নীলফামারীতে কৃষকের ঘরে এসেছে আগাম জাতের আমন ধান

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪:৩৫
 
চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতির সময়ে জেলায় সুসংবাদ বয়ে এনেছে আগাম জাতের আমন ধান। এ জাতের ধানের কাটামাড়াই চলছে এখন পুরোদমে। নতুন ধান স্বস্তি এনে দিয়েছে কৃষকসহ এলাকাবাসীকে।
 
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র মতে, জেলায় আগাম জাতের আমন ধান আবাদ হয়েছে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে। এ সব জমিতে ধান উৎপাদন হবে ৯০ হাজার মেট্রিক টন। আর এতে চাল হবে ৬০ হাজার মেট্রিক টন। যা চালের ঊর্ধ্বমুখী বাজার দর কমাতে একটি বড় প্রভাব ফেলবে।
 
জেলার ছয় উপজেলায় কমবেশি এ ধানের আবাদ হলেও বেশী হয়েছে কিশোরগঞ্জ উপজেলায়। কৃষি বিভাগের এমন তথ্যে কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকায় আগাম জাতের ধানের আবাদ। মাঠে থাকা ধান সোনালী রং ধারণ করেছে। এ সময় অনেক কৃষক ও কৃষি শ্রমিককে ব্যস্ত দেখা গেছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে। কৃষকরা বলছেন, ‘আগাম ধান উঠাতে পেরে আমরা আনন্দিত। পাশাপাশি আগাম ধান ওঠায় ওই জমিতে আলুসহ ভুট্টা আবাদ করা সম্ভব হবে।’ 
 
উপজেলার উত্তর চাঁদখানা গ্রামের কৃষক আকবর আলী (৪৫) জানান, এবার তিনি তিন বিঘা জমিতে আগাম জাতের ধান আবাদ করেছেন । ধান লাগানোর ৯০ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার কাটা মাড়াই শেষে ধান ঘরে উঠিয়েছেন। তিন বিঘা জমির ধান হয়েছে সাড়ে ৪৫ মণ। 
তিনি জানান, আগাম ওঠায় এ ধানের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ধান বিক্রির টাকা দিয়ে ওই জমিতে আগাম আলুর আবাদ করা যাবে। সে আলুতেও আগাম বাজার ধরা যাবে। এরপর ওই জমিতে ভুট্টার আবাদ করা সম্ভব হবে।
 
তিনি আরো জানান, এক বিঘা জমিতে এ জাতের ধানের আবাদে খরচ হয় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ধানের দাম প্রায় আট শ’ টাকা। এক বিঘার জমির ধান বিক্রিতে টাকা আসবে প্রায় ১২ হাজার। ধানে খড়ের আটি বিক্রি করে আরো পাওয়া যাবে দুই হাজার টাকা। একই গ্রামের কৃষক কৃষক দুলাল হোসেন (৩৫) একই জাতের ধান আবাদ করেছেন তিন বিঘা জমিতে। বৃহস্পতিবার তিনিও কাটামাড়াই করেছেন।
 
কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, এবার উপজেলায় ১৪ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের চায়না ও উচ্চ ফলনশীল রয়েছে সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমিতে । গত চার সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৩৫৫ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ মণ পর্যন্ত।
 
ইত্তেফাক/এমআর