প্রযুক্তির প্রসার এবং বদলে যাওয়া বৈশ্বিক পরিস্থিতি উৎপাদন নির্ভর দেশগুলোকে প্রভাবিত করছে। আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা, কারখানায় রোবট ব্যবহার এবং থ্রি-ডি প্রিন্টিং পদ্ধতি নতুন বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করছে। ফলে প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান, স্বল্প দক্ষ শ্রমিক নির্ভর কারখানাগুলোর জন্য নতুন হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে বলে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ট্রাবল ইন দ্য মেকিং? দ্যা ফিউচার অব ম্যানুফ্যাকচারিং-লিড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই আশংকা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উন্নয়নশীল বিশ্বে কারখানার উৎপাদন নির্ভর দেশগুলোর ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানে প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির বিষয়ে এখনই নীতি নির্ধারকদের ভাবতে বলা হয়েছে যাতে করে ভবিষ্যতের আশংকাগুলোর সাথে এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। প্রতিবেদনে উদাহরণ দিতে গিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার মতো দেশে অনেক নারীর কর্মসংস্থান রয়েছে। ফলে এসব দেশে স্কুলে মেয়েদের ভর্তির হার বেড়েছে, নারীর ক্ষমতায়নও বেড়েছে।
স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে এসব খাতে যে ধরণের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে সে বিষয়ে এখনই নীতি নির্ধারকদের ভাবতে হবে। কারণ দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) শিল্পের অবদান ক্রমেই বাড়ছে। সস্তা শ্রমের কারণে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো তাদের অর্থনীতিতে শিল্পের অবদান বাড়িয়েছে এবং অনেকে মধ্য আয়ের সারিতে উঠে এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে শুধু স্বল্প মজুরি নির্ভর শ্রমের উপর নির্ভর করে থাকলে হবে না, উৎপাদনশীলতাও বাড়াতে হবে।
প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের জ্যেষ্ঠ পরিচালক আনাবেল গনজালেস উল্লেখ করেছেন, উন্নয়নে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের কী অবদান হবে সেটি প্রযুক্তি এবং বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া বদলে দিচ্ছে। আগে কারখানার উৎপাদনশীল খাতে প্রচুর অদক্ষ শ্রমিক কাজ করতো এবং ধীরে ধীরে তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পেতো। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তি যেভাবে প্রসারিত হচ্ছে তাতে ভবিষ্যতের জন্য উন্নয়নশীল বিশ্বের উৎপাদন ব্যবস্থা, উৎপাদন ক্ষমতা এবং কর্মসংস্থানের বিষয়ে তাদের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়াতেও আধুনিকায় করতে হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববাণিজ্যের গতি ধীর হয়ে পড়ছে। বিশ্ব বাণিজ্যের ‘ভ্যালু চেইন’ ব্যবস্থা গুটি কয়েক দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। মোটর যান তৈরি, ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য, পোশাকসহ অন্যান্য ভোগ্য পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পরছে। ফলে উন্নয়নশীল বিশ্বকে তাদের উৎপাদন নির্ভর অর্থনীতির জন্য নতুন করে ভাবতে হবে। প্রযুক্তির প্রসারে যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে সেবিষয়গুলো এখনই নীতি সহায়তার সাথে সমন্বয় করতে হবে।
প্রযুক্তির প্রসারের ফলে অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক হলেও এর আর্থ-সামাজিক অন্য প্রভাবগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ইউনিট প্রতি উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে হবে। কিন্তু এজন্য প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে নতুন মডেল দাঁড় করাতে হবে। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শ্রমিকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। এজন্য নীতি নির্ধারকদের নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার উপযোগী নিয়ম ও বিধি প্রণয়ন করে সহায়তা দিতে হবে।
ইত্তেফাক/এমআর
