বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করতে ছয়টি বিতরণ কোম্পানির প্রস্তাবের ওপর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সোমবার থেকে গণশুনানি শুরু করবে।
ঢাকা চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) আজ রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিসমূহের প্রস্তাবিত বিদ্যুতের মূল্য পুনরায় বৃদ্ধির উদ্যোগ খুচরা পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ৯ টাকা ১৬ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ১০ টাকা, বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ১২ টাকা ৯৮ পয়সা, বৃহৎ শিল্পকারখানার ক্ষেত্রে ৯ টাকা ৫২ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ১০ টাকা ৩২ পয়সা এবং গৃহস্থালীতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ৬ টাকা ১০ পয়সা হারে বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ডিসিসিআই মনে করছে, পুনরায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে উৎপাদনমুখী শিল্প বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, স্টিল রি-রোলিং, টেক্সটাইল খাতে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। যদি আবারও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয় তাহলে প্রতিযোগী মূল্যে শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা ব্যাহত হবে। এছাড়া বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পসমূহ, রপ্তানি সক্ষমতা, শিল্প বহুমুখীকরণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা কিনা বিশেষ করে দেশের ক্রমবিকাশমান এসএমই খাতের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। পুনরায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং সর্বোপরি মূল্যস্ফীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
ঢাকা চেম্বার সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে বিদ্যুতের ট্যারিফ বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার এবং সকল সরকারি ও বেসরকারি স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিয়ে একটি ‘জ্বালানি মনিটরিং কমিটি’ গঠনসহ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে করে ভবিষ্যতে সকলের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে গুণগত মানসম্মত নির্ভরযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করা যায়।
সরকারের রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করতে সাশ্রয়ী মূল্যে গুণগত মানসম্মত জ্বালানি সেই সঙ্গে দক্ষ জ্বালানির ব্যবহার সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বাসস।
ইত্তেফাক/এমআই
