নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, বাংলাদেশ নদীবেষ্টিত দেশ। নদীকে ঘিরেই আমাদের জীবন ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। অথচ নদীমাতৃক বাংলাদেশের বহু নদী আজ হারিয়ে গেছে। অন্যদিকে নদীর সীমানা পিলার বসানো নিয়ে যে ত্রুটি রয়েছে, তাও সংশোধন করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নদী রক্ষা করা সরকারের একার কাজ নয়, এটি সকলের সম্মিলিত কাজ। নদীকে যত বেশি ভালবাসবে, সে দেশ অর্থনৈতিকভাবে তত উন্নত হবে। গতকাল রবিবার বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয় ও আন্তরিকতায় নদী সংরক্ষণে আমরা অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নদী খননসহ নদীকে দখল-দূষণমুক্ত করতে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ১১৮টি নৌপথ চিহ্নিত করে তা সচলের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বড়াল নদীর প্রবাহ বাধা সৃষ্টিকারী ৪টি পাকা রাস্তা কেটে এই নদীকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজ শুরু করেছি। এ ধরনের কার্যক্রম আমাদের অব্যাহত রয়েছে।
বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আতাহারুল ইসলাম, সদস্য শারমীন মুরশিদ, সাবেক সদস্য মো. আলাউদ্দিন, ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল, রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়কারী মিহির বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে আতাহারুল ইসলাম নদী রক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনে নদী আদালত তৈরির আহ্বান জানান। নদীর সঠিক তথ্য (ডাটাবেজ) সংগ্রহ, বৃত্তাকার নৌপথ চালু, খাল-জলাধারগুলো পুনরুদ্ধার, অভিন্ন নদী নিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে ন্যায্য হিস্যা আদায়ের প্রচেষ্টা চালানো, জাতিসংঘ পানিপ্রবাহ সনদ ১৯৯৭ এ অনুসমর্থন করার জন্য সরকারের প্রতি তিনি দাবি জানান। শারমীন মুরশিদ নদী রক্ষায় নদী টাস্কফোর্সসহ সরকারের উচচ পর্যায়ের যে সকল সিদ্ধান্ত রয়েছে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। মো. আলাউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলো আজ মহাবিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। অবৈধ দখল, নদীর শ্রেণি পরিবর্তন ও দূষণের মাধ্যমে অব্যাহতভাবে নদী ধ্বংস হচ্ছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নদীগুলো সংরক্ষণ ও রক্ষার জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে জলাভূমি ইজারা বন্ধে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশের নদীর সংকট ও করণীয় শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), রিভারাইন পিপল ও ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ।
ইত্তেফাক/আনিসুর
