এক সময় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের তাঁত শিল্পের ওপর নির্ভর করে তাদের জীবন-জীবিকার চাকা ঘুরতো। বর্তমানে যুগের আধুনিকায়ন, কাঁচামালের অভাব ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, সঠিক মূল্য না পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে বরিশালের বাবুগঞ্জের তাঁত শিল্প।
এতে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই তাঁত শিল্প দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব বলে মনে করেন সংশিষ্টরা।
এক সময় বরিশালের বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর, দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া, জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের রমজানকাঠি গ্রামের প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার এই পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলো। এসব এলাকার তাঁতীদের হাতের নিঁপুন ছোয়ায় তৈরি হত রঙ-বেরঙের সুঁতায় বোনা চাদর, মোটা কাপড়, সোয়েটার, বেড কভার, গামছা, লুঙ্গী, ওড়নাসহ নানা ধরনের তাত সামগ্রী। কিন্তু বর্তমানে কাঁচামালের দাম বেশি ও বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় লাভ হচ্ছে না এ শ্রমিকদের। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও মুলধনের অভাবে অনেকেই দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ছেন।
চাঁদপাশা তাঁত সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ আকন বলেন, বাবুগঞ্জ উপজেলার তাঁত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, পর্যাপ্ত সুঁতা সরবরাহ ও মূল্য কমানোসহ এর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।
এ বিষয়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আসমা বেগম বলেন, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমার নিয়ম অনুযায়ী ঋণ দেওয়ার চেষ্টা করবো।
সর্বপরি বাবুগঞ্জ উপজেলার তাঁত শিল্পের আদি ঐতিহ্য ও কর্মসংস্থান বজায় রাখতে সরকার স্বল্প সুদে ঋণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন এমনটাই প্রত্যাশা এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের।
ইত্তেফাক/কেকে
