প্রকৃতি রক্ষায় পথ প্রদর্শক দ্বিজেন শর্মা

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:২৩

দ্বিজেন শর্মা স্মরণসভায় বক্তারা বলেছেন, শুধু শ্রদ্ধা জানানো হয় প্রকৃতিকে রক্ষা করাই হবে তাকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো। দ্বিজেন শর্মা নেই তবে প্রকৃতি রক্ষায় তার দেখানো পথই আমাদের পাথেয় হয়ে রইবে। এই প্রকৃতিপ্রেমী প্রকৃতির সঙ্গে জীবনের বন্ধনের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। বুঝিয়েছেন প্রকৃতির গুরুত্ব। তার কাজকে পাথেয় ধরে প্রকৃতি রক্ষায় ব্রতী হওয়াই হবে দ্বিজেন শর্মাকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো। রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান (বোটানিক্যাল গার্ডেন) দ্বিজেন শর্মার নামে নামকরণ করার প্রস্তাবও রাখা হয় স্মরণানুষ্ঠানে।

গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। এ আয়োজনে একাডেমিকে সহযোগিতা করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, ডিসকাশন প্রজেক্ট, তরুপল্লব, নটরডেম নেচার স্টাডিজ ক্লাব, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিযাত্রী। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দ্বিজেন শর্মা।

এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন দ্বিজেন শর্মার স্ত্রী ড. দেবী শর্মা, অধ্যাপক ড. হায়াত্ মামুদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ইনাম আল হক, কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক প্রতিভা মুত্সুদ্দী, এভারেস্টবিজয়ী প্রথম নারী বাংলাদেশি নিশাত মজুমদার, তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন প্রমুখ।

তার আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’ ও ‘আয় আমাদের অঙ্গনে’ গান দুটি দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন নির্মিত দ্বিজেন শর্মার জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আনিসুজ্জামান বলেন, দ্বিজেন শর্মা প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন। তার সেই পরিচয়ে তাকে পুরোপুরিভাবে চেনা যায় না। তার সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাদের প্রত্যেককে তিনি প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন, সচেতন করেছেন। তিনি প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে সংযোগ ঘটিয়েছিলেন। তিনি ন্যায়পরায়ন একটি সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার কর্ম, গ্রন্থাবলি রেখে গেছেন। আমরা তা থেকে প্রেরণা নিয়ে তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো। দেবী শর্মা বলেন, বড়লেখার কাঠালতলিতে তার জন্মস্থানে নাগেশ্বরী গাছের তলায় তার চিতাভষ্ম, পরিধেয় থেকে সবকিছু সমাহিত করেছি। আমার শাশুড়ি মগ্নময়ী দেবীর কোলে তিনি সমাহিত হলেন, তার জীবনবৃন্ত পূরণ হলো। শামসুজ্জামান খান বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে জীবনের গভীর সম্পর্ক, চিন্তার বিন্যাস অনুসরণীয় ছিলো।

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, তার জীবনের বহুমাত্রিকতা আমরা দেখেছি। তিনি নিভৃতে সব অঙ্গনে কাজ করে শীর্ষে গেছেন, তাকে কি বলে অভিহিত করা যেতে পারে, তা আমার জানা নেই। মোকাররম হোসেন বলেন, তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন হাওর, বিল, নদী-নালায়। আবিষ্কার করেছেন প্রকৃতির নানা উপাদানকে। নিজে যেমন নিসর্গপ্রেমী ছিলেন, তেমনি তার ছাত্রদের মধ্যেও সৃষ্টি করেন নিসর্গপ্রেম। এ সময় তিনি মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানকে দ্বিজেন শর্মার নামে নামকরণের প্রস্তাব রাখেন।

মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, তিনি আমার শিক্ষক, গুরু। ছাত্র হিসেবে কতটুকু শিখেছি জানি না, তবে প্রকৃতির বিষয়ে যতটুকু শিখেছি, তার পুরোটুকুই তার কাছ থেকে শিখেছি। তিনি নিজেই ছিলেন একটা বটগাছ, সে ছায়া এখন সরে গেছে। সে অভাব কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

ইত্তেফাক/নূহু