হাওর রক্ষা বাঁধগুলির নির্মাণপদ্ধতি, সমস্যা ও সমাধানের উপায় বিষয়ক মতবিনিময় সভা সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই মতবিনিময় সভা দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, সুনামগঞ্জের বোরো ফসল রক্ষায় জেলার বড় ৩৬টি সহ সব হাওরের বাঁধ নির্মাণে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পে এবার ২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বরাদ্দ দিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।
জেলার ১১ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ৮৭ ইউপি চেয়ারম্যান, গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের বিশিষ্টজনরা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।
এসময় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিকি, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জাহেদুল হক, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরুল মোমেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক ও প্রকাশক পংকজ কান্তি দে, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, ফেনারবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু তালুকদার, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব বিন্দু তালুকদার, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রনজিৎ চৌধুরী রাজন প্রমুখ।
গত বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ২৩৯টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং ঠিকাদারদের কাজে বরাদ্দ ছিল ৪৬ কোটি টাকা। হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় জেলার ৪৬টি বড় হাওরের ফসল ডুবে প্রায় সোয়া তিন লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বাঁধ না হওয়ায় বোরো ফসলহানির ঘটনায় গত ২ জুলাই দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে ১৫ জন পাউবো কর্মকর্তা, ৪৬ জন ঠিকাদারসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
এরপর গত ৩ আগস্ট পাউবোর ১৫ কর্মকর্তা, ৪৬ জন ঠিকাদার ও ৩৯টি পিআইসির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ৭৮ জনসহ ১৪০ জনকে আসামি করে জেলা আইনজীবী সমিতি মামলা দায়ের করে।
দুদকের মামলায় সুনামগঞ্জ পাউবোর বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী ও ২ ঠিকাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা এখন জেল হাজতে।
ইত্তেফাক/ আরকেজি
