জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেয়রসহ ৮ জনের কারাদণ্ড

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৮:২৬
পশুহাট ইজারার টাকা আত্মসাৎ মামলায় নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান পৌর মেয়রসহ ৮ জনকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত। 
 
একই সঙ্গে এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৬৫ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে। 
 
মঙ্গলবার যশোর স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা এ আদেশ দেন। দণ্ডিতদের মধ্যে নড়াইল পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বিশ্বাস পলাতক রয়েছে। বাকিরা কারাগারে আছেন। 
 
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নড়াইল পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, নড়াইল পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বর্তমান পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলর শরফুল আলম লিটু, সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, আহমেদ আলী খান, রফিকুল ইসলাম, তেলায়েত হোসেন ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মতিউর রহমান।
 
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে আসামি সোহরাব হোসেন নড়াইল পৌরসভার মেয়র ছিলেন। ওই সময় রূপগঞ্জ পশুহাট ইজারার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এইচএম সোহেল রানা পলাশ নামে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার ৫৫৫ টাকায় ওই হাটের ইজারা পান এবং দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী তিনি বিডি হিসেবে ৩৩ হাজার টাকা জমা দেন। পরবর্তীতে তিনি দরপত্র মূল্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে ইজারা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন।
 
ওই আবেদনে অপর আসামি তৎকালীন পৌর কমিশনার জাহাঙ্গীর বিশ্বাসসহ ছয়জন কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত সচিব সুপারিশ করেন এবং মেয়র হিসেবে সোহবার হোসেন তা মঞ্জুর করেন। এরপর ইজারাদাতাকে তার জমাকৃত টাকা ফেরত দেয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন করে ইজারা আহ্বান না করে সকলে অবৈধভাবে লাভবান হবার উদ্দেশে ওই হাট তিন বছর ধরে খাস দেখিয়ে এক লাখ ৯৬ হাজার টাকা আদায় করেন এবং সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট নড়াইল থানায় মামলা হয়। দুদক যশোরের সহকারি পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করেন।
 
দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত প্রত্যেক আসামিকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও অন্য একটি ধারায় প্রত্যেক আসামিকে ৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬৫ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে প্রত্যেক আসামিকে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি