আদালতের নির্দেশে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার রাউতারা গ্রামের একটি কবর থেকে দাফনের ৪৪দিন পর এক গৃহবধূর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ লাশটি উত্তোলন করেন।
বুধবার সকালে লাশটি ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। থানার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩১ জানুয়ারি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের খাতের আলীর ছেলে আল আমিনের সঙ্গে বিয়ে হয় দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার রাউতারা গ্রামের নুর মোহাম্মদের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকার (১৫)। এরপর থেকে আল আমিন স্ত্রী আয়েশাকে বাড়িতে না তুলে শ্বশুর বাড়িতেই রেখে সংসার করতেন। মাঝে-মধ্যে আয়েশা তার শ্বশুর বাড়িতে গেলে পরিবারের লোকজনেরা তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। গত ১১ আগস্ট শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে দেখতে যান আয়েশা। সেখান থেকে স্বামী আল আমিনকে সঙ্গে নিয়ে ১৩ আগস্ট বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। ওই দিন রাতে স্বামী সহ আয়েশা ঘরে ঘুমাতে যান। রাত আড়াইটার দিকে আল আমিন চিৎকার করে জানান আয়েশা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
আয়েশার বাবা নুর মোহাম্মদ জানান, জামাই আল আমিনের চিৎকার শুনে তাৎক্ষণিক আমরা ঘরে গিয়ে দেখি ট্যাংকের উপর বসা অবস্থায় ঘরের বর্গার সাথে আয়েশার গলায় ওড়না লাগানো। এসময় আয়েশার মৃত দেহ উদ্ধার করি। তখন আল আমিন আমাদের বলে আপনাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আপনারা অল্প বয়সে বিয়ে দিয়েছেন। এব্যাপারে মামলা করলে আপনারা জেলে যাবেন, আর আমার চাকরি যাবে বলে প্রলাপ করতে থাকে। পরেরদিন দুপুরে মেয়ের জানাযা পর্যন্ত ছিল আল আমিন।
নুর মোহাম্মদ আরও জানান, মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি আমরা মেনে নিতে পারেননি। গত ২০ আগস্ট দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত ৭-এ মামলা গ্রহণের আবেদন করলে বিচারক মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য হাকিমপুর থানার ওসি নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আয়েশার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন। আয়েশা স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়া-লেখা করতো।
আয়েশার মৃত দেহ গোসলের দায়িত্বে থাকা প্রতিবেশী জাহানারা ও শিমু বেগম জানান, আয়েশার গলায় দাগ ছিল। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এস আই) আমির সোহেল জানান, আদালতের নির্দেশে থানায় গত ৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার বাদী আয়েশার বাবা নুর মোহাম্মদ তার জামাই আল আমিনকে আসামি করেছেন। আসামি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের একজন সদস্য। বর্তমানে তিনি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নে সৈনিক হিসেবে কর্মরত আছেন। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে এটি হত্যা, না আত্মহত্যা। এরপর আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোসা. শুকরিয়া পারভীন জানান, দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৭ এর বিচারক লাশটি উত্তোলনের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন। এরপর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আমার উপস্থিতিতে পুলিশ লাশটি উত্তোলন করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/জামান
