ফেনী সদর কালিদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু সাজেদা আক্তার শান্তা (৯)। বই-খাতা নিয়ে সহপাঠীদের সাথে যে বয়সে স্কুলে ছুটে যাওয়ার কথা সেই বয়সে কঠিন অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে সে শয্যাশায়ী।
বিদ্যালয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, শান্তা এখন আর স্কুলে যেতে পারছে না। চলতি বছরের শুরুতে কিছুদিন স্কুলে গেলেও শরীরে অজানা রোগ দেখা দেয়। পরবর্তীতে ফেনী শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিক, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা দেয়া হয়। অসহায় পিতা শাহআলম মেয়ের চিকিৎসার জন্য একমাত্র সম্বল সিএনজি অটোরিকশাটি বিক্রি করে দিয়েছেন। অপারেশনসহ চিকিৎসায় ইতিমধ্যে প্রায় চার লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে।
শাহআলম জানান, ২০১৬ সাল থেকে মেয়েটি বুকে ও পেটে প্রচণ্ড ব্যথায় কষ্ট করছে। ইতিমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রামে চিকিৎসা করা হলেও কোন ফল হয়নি। শান্তাকে চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। ভাড়া গাড়ি চালিয়ে পাঁচজনের সংসারের ভরন পোষণ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। শান্তাকে ভারত নিতে হলে প্রায় দুই লাখ টাকার প্রয়োজন। টাকার অভাবে তাকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে শান্তা সবার বড়। অন্য দুই ছেলের বয়স সাড়ে ৬ বছর ও দুই বছর।
শান্তার সাথে কথা হলে সে জানায়, তার বুকে ও পেটে প্রচণ্ড ব্যথা। ব্যথার কারণে চলতে-ফিরতে পারে না। সবাইকে স্কুলে যেতে দেখলে আমারও স্কুলে যেতে মন চায়। আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদের ইত্তেফাককে জানান, ক্লাসের ২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শান্তার প্রথম স্থান ছিল। তৃতীয় শ্রেণিতেও সে প্রথম ছিল। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অসুস্থতার কারণে চলতি বছর সে ক্লাস করতে পারেনি। তার চিকিৎসা সহযোগিতায় সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান ওই প্রধান শিক্ষক।
ইত্তেফাক/জামান
