রাজশাহীর দূর্গাপুরে রোহিঙ্গা হত্যা-নির্যাতনের ভিডিওচিত্র দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এসব বিভত্স ভিডিও চিত্র দেখে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
দুর্গাপুর শ্রীধরপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল হান্নান জানান, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতির নির্দেশে রোহিঙ্গাদের জন্য মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের থেকে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে আদায়কৃত টাকা জেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দূর্গাপুর উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি। রোহিঙ্গা হত্যার ভিডিও শিক্ষার্থীদের দেখানোর কথা স্বীকার করেন তিনি।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শ্রীধরপুর দাখিল মাদ্রাসার ক্লাসে শিক্ষকরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোহিঙ্গা হত্যা-নির্যাতনের ভিডিও দেখান। সোসতাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ভিডিও দেখিয়ে শ্রীধরপুর ছাড়াও চককৃষ্ণপুর আলিম মাদ্রাসা থেকেও চাঁদা আদায় করা হয়। ওই ভিডিও দেখে ভয়ে ক্লাসের মধ্যেই চিত্কার করে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী লতা, তহমিনা, এসনাহার, নাহিদুল, আরিফ ও মঞ্জুরসহ অনেকে। তাদের অনেকেই রাতে ঘুমাতে পারেনি। ঘুমের মধ্যেই আঁতকে উঠছে বলে জানায় তাদের পরিবারের সদস্যরা।
শিক্ষার্থী এসনাহারের বাবা লালু ও নাহিদুলের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল কালাম মোবাইল ফোনে তাদের সন্তানদের রোহিঙ্গা শিশুদের শুইয়ে রেখে জবাই করার দৃশ্য দেখান। যেটা দেখে তাদের সন্তানের ভয় পায়। রাতে তাদের সন্তানরা ঘুমাতে পারেনি। ঘুমের মধ্যে তারা আঁতকে উঠছে। মঙ্গলবার বিকেলে তাদের স্থানীয় শ্রীধরমপুর জামে মসজিদের ইমামের কাছে নিয়ে গিয়ে ঝাড় ফুঁক করানো হয়েছে। একই ভাবে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের কবিরাজ ও মৌলভিদের নিয়ে গিয়ে ঝাড় ফুঁক করিয়েছে বলে জানান লালু ও রফিকুল।
উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চককৃষ্ণপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ মকছেদ আলী জানান, জেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষর নির্দেশে তিনি উপজেলার সকল মাদ্রাসা প্রধানদের কাছে এ ধরনের একটি বার্তা দিয়েছেন। তবে তিনি কাউকে চাপ প্রয়োগ করে বা ভিডিও চিত্র দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতে বলিনি। তিনি বলেন, দুর্গাপুর উপজেলায় ১৭টি মাদ্রায় প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। রোহিঙ্গাদের সাহায্য সহযোগিতার জন্যই মূলতঃ উদ্যোগ নিয়ে তাদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে নেয়ার জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষদের বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেয়া হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও এ ধরনের কোনো নির্দেশনা আসেনি। তারপরও মাদ্রাসাগুলো কিভাবে এ কাজ করছে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
ইত্তেফাক/এএম।
