রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে স্কুলের একি দশা

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪:০৪
 
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান চলে খোলা আকাশের নিচে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরধারী না থাকায় ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে এই বিদ্যালয়ের কোন উন্নয়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
 
বিদ্যালয়ের ভবন, শ্রেণি কক্ষ ও আসবাবপত্রের প্রকট সংকট। শ্রেণি কক্ষের অভাবে পাঠদান চলে গাছ ও  খোলা আকাশের নিচে।
 
ওই বিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক মি. খুঁশী মোহন সরকার জানান, অনেক শিক্ষকই গাছের নিচে ছাত্রীদের পাঠদান করে যাচ্ছেন। যুগ যুগ ধরে বিদ্যালয়ে এমন অবস্থা চলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরধারী না থাকায় বিদ্যালয়টির কোন উন্নয়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ সবার।
 
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি মো. আনোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার জানান, এ উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে নারী শিক্ষার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় । নারী জাগরণ ও শিক্ষার প্রসারের লক্ষে ১৯৭৩ সালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কাছে বাইমজহাটি এলাকায় মনোরম পরিবেশে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
 
এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল প্রতিষ্ঠাতা হলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক এমপি  মো. ফজলুর রহমান খান ফারুক।
 
বিদ্যালয়ে ছাত্রী সংখ্যা এক হাজার ৭শ’ জন। শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন ৩৩ জন। তবে বিদ্যালয়ের ভবন অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও  ঝুঁকিপূর্ণ। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শাখা এবং এসএসসি ভোকেশনাল শাখায় ড্রেস মেকিং, ফুড প্রসেসিং এবং ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল অডিও-ভিডিও নিয়ে ছাত্রীরা সুনামের সঙ্গে খেলাপড়া করে যাচ্ছে।
 
জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল খুবই সন্তোষজনক। এই বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা পাঠদানের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উপজেলা, জেলা বিভাগীয় পর্যায়ে সুনাম বয়ে এনে চলেছে।
 
সবক্ষেত্রে ভালো করায় ২০০৪ সালে এই বিদ্যালয় ঢাকা বিভাগে প্রথমস্থান অর্জন করে। বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা মিসেস আলেয়া বেগম প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. ইয়াজ উদ্দিনের কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সম্মননা পুরস্কার লাভ করেন। এদিকে বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে রয়েছে ভবন, শ্রেণি কক্ষ ও আসবাবপত্রের চরম সংকট। শ্রেণি কক্ষের অভাবে পাঠদান চলে গাছ ও  খোলা আকাশের নিচে।
 
এই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সাবেক এমপি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সদস্য রয়েছেন মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাহাদত হোসেন সুমন, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ভিপি মো. হযরত আলী মিঞা, ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন, মো. মাখন মিয়া, শহিদুর রহমান শহিদ শৃধা ও বিকাশ চন্দ্র গোস্বামী।
 
এতসব প্রভাবশালী মানুষ থাকলেও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে এই বিদ্যালয়ের কোন উন্নয়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের বহুতল ভবন নির্মাণসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য এলাকাবাসী, ছাত্রী, শিক্ষক মণ্ডলী ও অভিভাবকরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
 
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাহাদত হোসেন সুমন জানান, স্কুলের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সময় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়। কিন্তু বরাদ্দ না আসায় উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি।
 
বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মো. সুলতান উদ্দিন বলেন, লেখাপড়া, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ছাত্রীরা ভালো করলেও বর্তমানে বিদ্যালয়টি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীন জানান, মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সমস্যার কথা তিনি জানেন। সমস্যা দূরীকরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/ আরকেজি