পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে অবশেষে সন্ধ্যা নদীর গহ্বরে বানারীপাড়ার ব্রাহ্মণকাঠি এলাকায় বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের বিশাল টাওয়ারটি বিলীন হয়ে গেল।
নদীর ভাঙন কবলিত এলাকার ওই টাওয়ারটি বিলীনের অশঙ্কায় এলাকার চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ এলাকাবাসীর বক্তব্য তুলে ধরে গত ৬ আগস্ট ইত্তেফাক সহ বিভিন্ন পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রচারিত হলেও ওই সম্পদ রক্ষায় কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
এ প্রতিবেদন দেখে ইউএনও ইসরাত জাহান টাওয়ারের মালামাল রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বানারীপাড়া সাব জোনাল অফিসের এ জি এম নারায়ণ চন্দ্র নন্দী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে শুধু মাত্র তার খুলে নেন। কিন্তু টাওয়ার খোলার কোন ব্যবস্থাই নেননি তিনি। সোমবার দুপুরে টাওয়ারটি নদী গর্ভে বিলীন হলেও বিদ্যুৎ অফিস এখনো তা জানে না বলে বর্তমানে দায়িত্ব থাকা জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার গাজী সোহরাব হোসেন জানান।
সরেজমিন গেলে এলাকাবাসী জানান প্রায় তিনবছর পূর্ব থেকে ভাঙন কবলিত এলাকার ওই টাওয়ার নিরাপদ স্থানে সরাতে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২'র বানারীপাড়া সাব জোনাল অফিসে বার বার জানানো হলেও তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম সুমন অভিযোগ করেন বহুবার টাওয়ারটি রক্ষার জন্য বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অনুরোধ ও আবেদন-নিবেদন করেছেন। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কোন ভ্রুক্ষেপ করেনি। তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তিনি রবিবার অাদালতে মামলা করবেন বলে জানান।
বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল ঘরামী জানান, বানারীপাড়া ও বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২'র কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়ে ফোন করার পাশাপাশি লিখিত আবেদন করা হলেও টাওয়ারটি রক্ষায় কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ইউএনও'র কড়া নির্দেশের পর শুধু তার খুলে নেয়া হলেও টাওয়ারের মূল্যবান মালের প্রতি কোন নজর দেয়নি।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম নারায়ণ চন্দ্র নন্দীকে ফোন করা হলে দায়িত্বে থাকা জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার গাজী সোহরাব হোসেনের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে জানান- তিনি অবসরে যাওয়ায় দায়িত্ব তার ওপর রয়েছে। টাওয়ারের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওটা ঠিকাদার ভেঙে দিবেন। তার ওয়ার্ক অর্ডারে টাইম আছে। এসময় নদী গর্ভে বিলীনের কথা বললে তিনি চেতনা ফিরে পান। তিনি তা জানেন না বলেও জানান। এ বিষয়ে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২'র জিএম প্রকৌশলী হেমচন্দ্র বৈদ্য'র সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ওইটা বানারীপাড়ার এজিএম দেখবেন।এজি এম'র অবসরে গিয়েছেন বলা হলে জিএম জানান এখনো এজিএম অবসরে যাননি। তবে এক পর্যায়ে জিএম বলেন-বানারীপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষই টাওয়ারটি নদী থেকে তুলে আনবে।
ইত্তেফাক/জামান
