হিলিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী ও দেবর আটক

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২৩:৫৬

দিনাজপুরের হিলিতে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। নিহত শাহানাজ বেগমের (৩৬) স্বামীর নাম খোরশেদ আলম। হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্তের দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামে (বিজিবি ক্যাম্প পাড়া) বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত শাহানাজ ওই গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের মেয়ে। এ ঘটনায় রাত ১০টার দিকে খোরশেদ আলম ও খোরশেদের ভাই মুক্তারকে আটক করেছে পুলিশ।

খোরশেদ হাকিমপুর পৌর শাখা আওয়ামী লীগের ৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক বলে নিশ্চিত করেছেন এই ওয়ার্ডের সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান।

এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই শতাধিক এলাকাবাসী রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহানাজের হত্যাকারী স্বামী খোরশেদের ফাঁসি দাবীতে শ্লোগান দিয়ে থানার সামনে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যায়। এ সময় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সবুর মামলা নেওয়ার আশ্বাস দিলে মিছিলটি থানা থেকে ফিরে আসে।

শাহানাজের বাবার পরিবার ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে পারিবারিকভাবে খোরশেদ ও শাহানাজের মধ্যে ঝগড়া চলছিল। তিনদিন আগেও খোরশেদ স্ত্রী শাহানাজকে কোনো কারণ ছাড়া মারধর করলে শাহানাজ বাবার বাড়িতে চলে যান। এ সময় খোরশেদ খবর ছড়ায় তার স্ত্রী বাড়ি থেকে তিন লাখ টাকা নিয়ে চলে গেছে। এ অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে খোরশেদ শাহানাজকে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। তারপর ঘরের দরোজা বন্ধ করে পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাহনাজ গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা তাকে ৬টা ২০ মিনিটে ঘরের দরোজা ভেঙে উদ্ধার করে দ্রুত হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাশেদ জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকার পর তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হয়। এসময় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার্ড করা হয়।

শাহানাজের চাচাতো ভাই লিটন জানান, রাত ৮টার দিকে শাহানাজকে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। খোরশেদ কোনো কারণ ছাড়াই শাহানাজের ওপর প্রতিনিয়ত শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতন করতো। আজ একইভাবে শারিরীক নির্যাতন করে ও বেদম পিটিয়ে শাহানাজকে হত্যা করেছে। শাহানাজ এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী।

এদিকে হাকিমপুর থানার অফিসার ইনজার্চ (ওসি) আব্দুস সবুর জানান, তিনি খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে শাহানাজের স্বামী খোরশেদ ও তার দেবর মুক্তারকে আটক করা হয়েছে। লাশও থানায় আনা হয়েছে। খোরশেদ ও মুক্তারকে জিঞ্জাসাবাদ করা হলে জানা যাবে কি কারণে শাহানাজকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে লাশের এখনো সুরতহাল করা হয়নি বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/নূহু