একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

সিরাজগঞ্জের ছয় আসনে মাঠে সম্ভাব্য প্রার্থীরা

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:১৭

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিগণ  মাঠে নেমেছেন। সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ, পোষ্টার, ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেসবুক-টুইটার ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতার বিষয়ে জানান দিচ্ছেন। প্রত্যেক দলের সম্ভাব্য প্রার্থিগণ ঈদ পূজাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন এবং সুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ্ এছাড়া জেলার বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে গিয়ে বানবাসী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা না হলেও সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনের জন্য ইতোমধ্যেই  সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোট ও বিএনপি সমর্থিত ১৮ দলীয় জোটের সকল আসনেই এ প্রধান দুটি জোটের পক্ষ থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলের হাইকমান্ডে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। একসময় সিরাজগঞ্জে বিএনপির শক্ত অবস্থান ছিলো কিন্তু পরবর্তীতে আর বিএনপি আর তাদের সে অবস্থা ধরে রাখতে পারেনি। এবার নির্বাচনে বিএনপি তাদের পুরোনো অবস্থা উদ্ধারে উঠে পরে লেগেছে।  নবম সংসদ নির্বাচনে জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টি আওয়ামী লীগের দখলে ছিলো ১টি আসন বিএনপির দখলে ছিলো। আগামী নির্বাচনেও সিরাজগঞ্জ-১ ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের জেতার সম্ভাবনাই বেশি বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করে। কারণ এক সময় সিরাজগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গে বিএনপি জামায়াতের প্রভাব ছিলো। কিন্তু বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশব্যাপী ব্যাপক উন্নয়ন ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধতার কারণে উত্তরবঙ্গে আওয়ামী লীগের অবস্থা এবার বেশ শক্ত। জেলার বেশিরভাগ আসনেই আওয়ামী লীগের একক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।  দশম সংসদে জেলার ৬টি আসনই আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ), ইসলামী ঐক্য জোট, সিপিবি, বাসদ ৬টি আসনেই নির্বাচন করার লক্ষ্যে প্রচারণা চালাচ্ছে। নিবন্ধন বাতিল হওয়ার কারণে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা নেই বললেই চলে। তবে তারা গোপনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া কিছু আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতরা সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। সমঝোতা না হলে ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম জামায়াত ২/৩টি আসনে প্রার্থী দিতে পারে। এলক্ষ্যে তারা স্ব স্ব এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি সবগুলো আসনে তাদের দলীয় প্রার্থী দিতে চায় এব্যাপারে তারা কোনো ছার দিতে রাজি নয় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে অন্তত ৪টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে সিরাজগঞ্জ বাসীর ধারনা। তবে এর মধ্যে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে যে দল দক্ষতার পরিচয় দিবে জয়ের পাল্লা তাদের দিকেই যাবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।

ইত্তেফাক/নূহু