দ্বিতীয় দিনে ছাত্রলীগের অবরোধে চবি ক্যাম্পাস অচল

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:২২

ছাত্রলীগের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধে দ্বিতীয় দিনে অচল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। অনুষ্ঠিত হয়নি কোন ধরনের পরীক্ষা ও ক্লাস। বন্ধ রয়েছে শাটল ট্রেন ও শিক্ষকদের বাস। অবরোধের ডাকে সোমবার পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রী শূন্য হয়ে যায়।

এদিকে ছাত্রলীগের অবরোধ চলমান থাকলেও সকাল থেকে তারা কোন ধরনের বড় কর্মসূচি পালন করে নাই তারা। তবে ক্যাম্পাসে পুলিশের অবস্থান ছিল সর্তক।

সূত্রে জানা যায়, শাখা ছাত্রলীগের ডাকা চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনের অবরোধ চলমান রয়েছে। যে কারণে কাম্পাসে সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে শাটল ট্রেন ও শিক্ষক বাস। শাটল ট্রেন ও শিক্ষক বাস চলাচল না করায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগের পরীক্ষা ও ক্লাস। তবে দ্বিতীয় দিনের অবরোধ চললেও  সকাল থেকে ছাত্রলীগের কোন ধরনের কর্মসূচি ছিল না।

পরবর্তীতে দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শাহ আমানত হলের সামনে রাস্তা অবরোধ করে মিছিল দিতে থাকে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরদের উপস্থিতিতে  তারা রাস্তা অবরোধ ছেড়ে হলে অবস্থান নেয়।

অবরোধের বিষয়ে চবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হক আরাফাত সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের ছাত্র ধর্মঘট অব্যাহত আছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত  অবরোধ চলমান থাকবে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে গত রবিবার ছাত্রলীগের ধর্মঘটে পরিবহন পুলে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকবাসের ত্রুটি সারানো যায়নি। ফলে সোমবার চট্টগ্রাম শহর থেকে শিক্ষকদের পরিবহনে কোনো বাস যেতে পারেনি। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকবাসগুলোর ত্রুটি সারানো যায়নি। ফলে শিক্ষকরাও ক্যাম্পাসে আসতে পারেননি। যেহেতু শিক্ষকরা আসতে পারেননি, তাই আমরাও রেলওয়েকে শাটল ট্রেন বন্ধ রাখতে বলেছি।’

হাটহাজারী থানার সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আমরা পর্যাপ্ত সতর্কতার মধ্যে রয়েছি। যানবাহনের  সমস্যা থাকার কারণে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি কম।’

এছাড়া দুই শিক্ষার্থী ও ছয়জনের অস্ত্র মামলার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ্বাসে আটককৃত দুইজনকে রবিবার রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে যে অস্ত্র মামলা হয়েছে সেটা যেহেতু শিক্ষার্থীদের বিষয় সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পজেটিভ চিন্তা ভাবনা করা হবে।’

আরও পড়ুন: মোরেলগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, তিন গৃহবধূকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা

অবরোধের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যখন কিছু ব্যাক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও নিয়োগ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, অনৈতিক কাজ হচ্ছে না তখনই তারা একত্র হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করছে। তবে আমি আইনশৃংখলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের সহযোগিতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য যা করা দরকার তাই করবো।’

ইত্তেফাক/নূহু