অবিরাম বর্ষা ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় আমন ফসলসহ শাক-সবজি বাগান, রাস্তাঘাট ও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
গত চারদিনের বর্ষায় সোমেশ্বরী ও মহারশি নদীতে গত শুক্রবার রাতে উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। শতশত একর আমন ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। মহারশি নদীর রামেরকুড়ায় পূর্বের ভাঙা অংশ দিয়ে এবং সদর বাজারের ড্রেন দিয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে হাঁটু পানি ও সদর বাজার তিনফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়।
দোকানপাটে পানি প্রবেশ করে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার মালামালের ক্ষতি হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন। সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমন ফসলের ক্ষতি সাধিত হবার পাশাপাশি তার ইউনিয়নে ১০/১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে শতশত মানুষ।পানিবন্দী এলাকার লোকজন গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন।
মালিঝিকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোতা বলেন, তার ইউনিয়নে ঢলের পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। ধানশাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, সোমেশ্বরী নদীর পানির তোড়ে বাগেরভিটায় রাস্তা বিধ্বস্ত হয়ে ধানশাইল-কুচনিপাড়া কান্দুলী, মাঝাকান্দুলীর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা ও ইউএনও ফারহানা করিম সকাল থেকেই পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। এ ঢলে ক্ষতির সঠিক কোন পরিমাণ জানা যায়নি। উপজেলা চেয়ারম্যান এ প্রতিবেদককে জানান, আবাদকৃত ফসলের ২৫ভাগ ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঢলের পানির স্থায়িত্বের উপর ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করছে। শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, পাহাড়ি ঢলে ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে ঢলের পানি স্থায়িত্বের উপর ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করবে।
ইত্তেফাক/জামান
