চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রাজস্ব আদায়ে বড় সাফল্য এসেছে। আলোচ্য মাসে রাজস্ব আদায় বেড়েছে পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের চাইতে ২৭ শতাংশ বেশি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে আমদানি শুল্ক আদায় বেড়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, গত জুলাইয়ে আমদানি ও রপ্তানি বেশি হওয়ায় মূলত আমদানি শুল্ক বেড়েছে। ফলে রাজস্ব আদায়ে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। অবশ্য চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে মোট ১২ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বা গত বছরের জুলাইয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৯ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত জুলাইয়ে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ২ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা বা ২৭ দশমিক ০৫ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) হিসাব অনুযায়ী, গত জুলাইয়ের রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। যদিও এর আগের মাস জুনে কমেছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৪৭ শতাংশ। মূলত এ দুই কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে এনবিআর সূত্র।
চলতি অর্থবছর ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট খাত থেকে। স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট, আবগারি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক মিলিয়ে সার্বিকভাবে ভ্যাট খাত থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ৮৭ হাজার ১৯০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। আমদানি শুল্ক, আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ও আমদানি পর্যায়ের সম্পূরক শুল্ক ও রপ্তানি শুল্ক মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৭০ হাজার কোটি টাকা।
গত জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের বিরোধিতায় তা দুই বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইনটি কার্যকর না হওয়ায় রাজস্ব আদায় কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, রাজস্ব আদায়ে ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। অতীতে কখনোই ৩৪ শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় বাড়েনি। এছাড়া নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর না হওয়ায় রাজস্ব আদায়ে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অবশ্য অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন ভ্যাট আইনের বাস্তবায়নের উপর ভর করে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়নি। অর্থনীতির আকার বিবেচনা করেই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। বকেয়া আদায়, মামলায় আটকে থাকা রাজস্ব আদায়ে উদ্যোগ, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ফাঁকি রোধ ও মাঠ পর্যায়ে তদারকি বাড়ানো এবং বাজেটে নেওয়া নতুন উদ্যোগের ফলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যামাত্রা অর্জন করার উদ্যোগ রয়েছে এনবিআরের পক্ষ থেকে।
এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানও বলছেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হবে। তাতে এনবিআর সফল হবে বলেই আশা করছেন তিনি।
এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাইয়ে আমদানি শুল্ক আদায় বেড়েছে প্রায় ৫১ শতাংশ। এছাড়া ভ্যাট আদায় বেড়েছে ১৯ শতাংশ। তবে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাটের বিবেচনায় আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১১ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে আয়কর আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৫৭ কোটি টাকা, যা পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের চাইতে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা বেশি। এছাড়া ভ্যাট ৪ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা, যা পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের চাইতে ৬৯০ কোটি টাকা বেশি। আর আমদানি শুল্ক আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা, যা পূর্বের অর্থবছরের জুলাইয়ের চাইতে ১ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বেশি।
ইত্তেফাক/এমআই
