গত ক’দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ১৫ গ্রাম প্লাবিতসহ উপজেলায় আমন ফসলসহ শাক-সবজির বাগানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া রাস্তাঘাট ও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। গত চারদিনের ভারী বর্ষণ, সোমেশ্বরী ও মহারশি নদীতে গত শুক্রবার রাতে উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ী ঢলের পানিতে উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। শতশত একর আমন ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। মহারশি নদীর রামেরকুড়ায় পূর্বের ভাঙা অংশ দিয়ে এবং সদর বাজারের ড্রেন দিয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে হাঁটু পানি ও সদর বাজার তিনফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমন ফসলের ক্ষতি সাধিত হবার পাশাপাশি তার ইউনিয়নে ১০/১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতশত মানুষ। পানিবন্দি এলাকার লোকজন গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। ঢলের পানিতে তলিয়ে উপজেলা পরিষদ পুকুরসহ অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ঢলের পানির তোড়ে রাস্তাঘাট ভেঙে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মালিঝিকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, তার ইউনিয়নে ঢলের পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। ধানশাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, সোমেশ্বরী নদীর পানির তোড়ে বাগেরভিটায় রাস্তা বিধ্বস্ত হয়ে ধানশাইল-কুচনিপাড়া কান্দুলী, মাঝাকান্দুলীর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ী ঢলের পানিতে প্লাবিত গ্রামগুলো হচ্ছে: ঝিনাইগাতী সদর, কান্দুলী, মাঝাকান্দুলী, দাড়িয়ারপাড়, বাগেরভিটা, কুচনিপাড়া, কালিনগর, সারিকালিনগর, বালুরচর, সুরিহারা, কোনাগাঁও, চতল, বনগাঁও, মাটিয়াপাড়া, পাগলারমুখসহ প্রায় ২০টি গ্রাম। উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা ও ইউএনও ফারহানা করিম সকাল থেকেই পাহাড়ী ঢলের পানিতে প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। এ ঢলে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক কোনো পরিমাণ জানা যায়নি। উপজেলা চেয়ারম্যান এ প্রতিবেদককে জানান, আবাদকৃত ফসলের ২৫ ভাগ ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঢলের পানির স্থায়িত্বের উপর ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করছে। শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশরাফউদ্দিন বলেন, পাহাড়ী ঢলে ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে ঢলের পানি স্থায়িত্বের উপর ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করবে।
ইত্তেফাক/নূহু
