বন্দর উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে গিয়ে সাইফুল ইসলাম সীমান্ত (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র মারা গেছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলার ময়মনসিংহ পট্টি এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর হাসপাতালে সীমান্তকে আনা হয়। এরপর সীমান্তের আত্মীয়রা চিকিৎসাগ গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভাঙচুর করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ডাক্তাররা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ দেখায়।
নিহত সীমান্ত একই এলাকার নাঈম মিয়ার ছেলে। সেই বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। সীমান্তের মামা কাজল জানান, ‘বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিন বন্ধু শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে যায়। ওই সময় নদীর স্রোতে তিন বন্ধু পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা দুইজনকে উদ্ধার করতে পারলেও সীমান্তকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল প্রায় ১ঘণ্টা চেষ্টা করে সীমান্তকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে আনা হলে জরুরী বিভাগের ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। ৩শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার জান্নাতুল ফেরদৌস লাইমা জানান, হাসপাতালের আনার আগেই সীমান্তের মৃত্যু ঘটে।
এদিকে শিশুর মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ভিতরে বিক্ষোভ দেখায় নিহতের স্বজনেরা। এ সময় তারা হাসপাতালে ডাক্তারদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করেন। তারা হাসপাতালের ভিতরে ভাঙচুর শুরু করে এবং ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের লাঞ্ছিত করে। পরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে দুপুরে হাসপাতালের ভিতরে আধা ঘণ্টার জন্য কর্মবিরতি দিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে কর্মকর্তা কর্মচারীরা। হাত কেটে যাওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা মো. আমির হোসেন (৬০) বলেন, ‘শিবুমার্কেটে এলাকায় পা পিছলে পরে গিয়ে হাত কেটে যায়। এর জন্য চিকিৎসা নিতে আসি কিন্তু এখানকার ডাক্তার, নার্স ও স্টাফ চিকিৎসা না দিয়ে বের করে দেয়।’
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক জানান, ‘হাসপাতালে ভাঙচুর করেছে নিহতের স্বজনেরা। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরা দেখে অভিযুক্তদের সনাক্ত করা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব ব্যাপারে অভিযোগ দিচ্ছে।’
ইত্তেফাক/নূহু
