নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ বিভিন্ন স্থানে জেল-জরিমানা, জাল জব্দ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০২

মা ইলিশ রক্ষায় সরকার প্রজনন মৌসুম ১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ মাছ আহরণ, বাজারজাতকরণ, বিক্রি ও পরিবহন নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আহরণ করা হচ্ছে ইলিশ। আর তাই ইলিশ আহরণ বন্ধ করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে আহরণকারীদের জেল-জরিমানাসহ জাল জব্দ করেছেন। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

ভোলা: রবিবার সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোলার মেঘনায় অভিযান চালিয়ে সাত জেলের জেল জরিমানা, ৩৫ হাজার মিটার জাল, ৬০ কেজি মা ইলিশ এবং দুটি মাছ ধরা নৌকা জব্দ করেছে।

ভোলা জেলা মত্স কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, দৌলতখান উপজেলায় সাত জেলেকে আটক করে চারজনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর তিন জেলের প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে জব্দ ইলিশ মাছ স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

মংলা (বাগেরহাট): নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বেআইনিভাবে জেলেদের আহরণকৃত প্রায় অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও জাটকা ইলিশ জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের (মংলা) অপারেশন অফিসার লে. এমএইচ আই সিদ্দিক জানান, রবিবার সকালে মংলার পশুর নদীর বাজুয়া, পশুর ও মংলা নদীর মোহনা ও লাউডোব এলাকায় ইলিশ আহরণ করছিল জেলেরা। এ সময় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন নৌকা থেকে প্রায় ১ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও প্রায় ১শ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়েছে। জব্দ জাল কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম ও মত্স্য কর্মকর্তা ফেরদৌস আনসারীর উপস্থিতিতে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া জব্দ মাছগুলো স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

আমতলী (বরগুনা): আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সরোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে মত্স্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপুর সহযোগিতায় রবিবার রাত ৮টা থেকে সোমবার ভোররাত ৩টা পর্যন্ত পায়রা নদীর লোছা, বৈঠাকাটা, আঙ্গুলকাটা, গুলিশাখালী, আয়লাপাতাকাটা ও বুড়ির চরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধভাবে পাতা ৩ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৩০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করে। আটক জাল রাতেই পুরিয়ে ফেলা হয়। মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

তালতলী (বরগুনা): তালতলী ও পাথরঘাটায় রবিবার ভোররাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে মাছ ধরার পাঁচটি ট্রলারসহ বিপুল পরিমাণ জাল ও মা ইলিশ এবং ছয় জেলেকে আটক করা হয়। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মো. কামরুল হুদা পাঁচ জেলেকে দু বছর করে কারাদণ্ড ও একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

কাউখালী (পিরোজপুর): কাউখালীর ফলইবুনিয়া গ্রামের মো. শফিক সিকদার নামে এক জেলেকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার সকালে কাউখালী ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাধবী রায় ওই জেলেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

কাউখালী উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, রবিবার রাতে কাউখালী থানার পুলিশ ও মত্স্য বিভাগ কচাঁ ও সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে আইন অমান্য করে মাছ ধরার দায়ে ওই জেলেকে আটক করা হয়।

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট): রবিবার মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হুসাইন, উপজেলা সহকারী সিনিয়র মত্স্য অফিসার মো. ইয়াকিন আলী এবং কোস্ট গার্ডের কন্টিজেন্ট অফিসার মো. ফরিদ হাসানের নেতৃত্বে একটি টিম বলেশ্বর ও পানগুছি নদীতে অভিযান চালিয়ে ৬০ হাজার মিটার জাল জব্দ করে।

রামগতি (লক্ষ্মীপুর): মেঘনা নদীতে ইলিশ মাছ ধরার অপরাধে রামগতিতে ৯ জেলেকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজগর আলী পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ড দেন। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার বিচ্ছিন্ন চরগজারিয়ার অদূরে মেঘনা নদী থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

স্ব্বরূপকাঠি (পিরোজপুর): রবি ও সোমবার উপজেলা সহকারী মত্স্য কর্মকর্তা ফনি ভুষন পাল, নৌ পুলিশের এসআই মো. হারুন ও থানা পুলিশের এএসআই মো. সোহেলের নেতৃত্বে মত্স্য বিভাগ উপজেলার সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ১২ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে। পরে জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়।

ইত্তেফাক/নূহু