প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে, দেশে ফিরবেন ৭ অক্টোবর

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৭, ১০:৫০
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ দিনের সরকারি সফর শেষে লন্ডন পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকাল সোয়া ৩টা) হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান।
 
এর আগে প্রধানমন্ত্রী সোমবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫ মিনিট) লন্ডনের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জিয়া উদ্দিন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। লন্ডনে তিনদিন অবস্থানের পর প্রধানমন্ত্রী আগামী শুক্রবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটে রওনা হয়ে সিলেট হয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন।
 
এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে ও ফুল ছিটিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানো হবে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে গতকাল বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুই অংশ, রাজধানীর সব সংসদ সদস্য এবং সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
 
বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করবেন। এ সময়ে আওয়ামী লীগ ও দেশবাসী এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা জানাবেন।’ এসময় তিনি বলেন, ‘আমরা নেত্রীর জন্য গর্বিত, গোটা জাতি গর্ববোধ করছে। আমরা যদি তাকে স্বাগত না জানাই সেটা আমাদের বিবেক কষ্ট দেবে, আমাদের অনুভূতিতে আঘাত হবে। আজকে ঢাকাবাসী সংবর্ধনা দিতে রাস্তায় দাঁড়াবেন এটাই আমরা আশা করি।’
 
আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ কর্তৃক মাদার অব হিউম্যানিটি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন। এছাড়া রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তার পদক্ষেপ জাতিসংঘে প্রশংসিত হওয়ায় তাকে এ সংবর্ধনা দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থান করবেন। আর ঢাকা মহানগর ও অন্যান্য পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত পুরো রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নেবেন। প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবেন বুদ্ধিজীবীরা। দলের পক্ষ থেকেও সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য শীর্ষ নেতা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন। এরপর গণভবনে যাওয়ার পথে সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীরা ফুল ছিটিয়ে ও শ্লোগানে তাকে শুভেচ্ছা জানাবেন। গণভবনে পৌঁছার পর সেখানে সংগীত শিল্পী, লেখক, আঁকিয়ে, অভিনয়শিল্পীরা প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করবেন। জানা গেছে, সংবর্ধনা দিতে গিয়ে মানুষের যাতে দুর্ভোগ না হয়, সড়কে যাতে যানজট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।  এদিকে গণসংবর্ধনা সফল করতে আজ বুধবার বিকাল ৪টায় ১৯, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে (২য় তলা) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। 
 
ইত্তেফাক/আনিসুর