চলচ্চিত্রের দিকনির্দেশনা দেবেন কারা!

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৭, ১০:৫৬
 
গত কয়েকবছর ধরে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত ঢালিউড বাজারটা যখন সম্ভাবনার দিকে এগুচ্ছে ঠিক তখনই চলচ্চিত্র সংগঠনগুলো সমস্যার ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। গতবছরও যেখানে ইন্ড্রাস্ট্রির সবাই কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় নেমেছিল দেশের চলচ্চিত্র বাঁচাতে, এ বছরে এসে তারাই যেন কথা বলছেন বিভেদের সুরে। চিত্রটা যেন বদলে যায় একটু একটু করেই। শেষ পর্যন্ত ‘চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি’র নির্বাচনে বড় আকার ধারণ করে এই বিভাজন। যার প্রতিটি ইস্যুতেই ছিলেন শাকিব খান। এমনকি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক এই সভাপতিকে বয়কট পর্যন্ত করে চলচ্চিত্রের ১৮টি সংগঠন। 
 
তবে সেই নেতিবাচক সময়ের ঘটনা পাড়ি দিয়ে আবারও একটি আশার আলো দেখা যাচ্ছিল। কিছুদিন শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে শাকিব খান ও ওমর সানীর উপস্থিতি তেমনটাই আভাস দিয়েছিল। কিন্তু আবারও যেন পাল্টে গেল চিত্রটা। সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ফোরাম’ নামে যাত্রা শুরু করে নতুন আরও একটি সংগঠন। যা কয়েকদিন আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। শাকিব খানের পরিকল্পনায় শুরু হওয়া এই নতুন সংগঠনের সভাপতি প্রযোজক নাসির উদ্দিন দিলু ও সাধারণ সম্পাদক পরিচালক কাজী হায়াত্। আর অন্যান্য পদ ছাড়াও প্রায় ২০০ জন সদস্য রয়েছে নতুন এই সংগঠনে।
 
একটি মূল বিষয় এই সংগঠনের লক্ষণীয় যে, চলচ্চিত্রের অন্যান্য সংগঠনের সাথে যাদের বিভিন্ন সময় সমস্যা ছিল তাদের বেশিরভাগই এই নতুন সংগঠনের সাথে যুক্ত। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শাকিব বলেন, ‘আমরা যারা এ সময়ে কাজ করছি, নিয়মিত আছি, তারাই এই নতুন সংগঠনের সাথে আছি। আমাদের দেশেও ভালো চলচ্চিত্র হচ্ছে। কিন্তু দিন শেষে সবকিছু কোথায় যেন শেষ হয়ে যাচ্ছে। চলচ্চিত্রকে আমাদের এগিয়ে নিতে হবে। সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ফোরামের যাত্রা শুরু।’ 
 
সংগঠনের পরিকল্পনার সাথে শুরু থেকেই যুক্ত আছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। তিনি বলেন, ‘যারা চলচ্চিত্রের উন্নতি চাই এই সংগঠন তাদের। চলচ্চিত্র বাঁচলেই শিল্পীরা বাঁচবে। হলগুলোও বাঁচবে। কারও বিপক্ষে আমরা নই। কারণ ইন্ডাস্ট্রি আমাদের। তাই আমাদেরকেই ভাবতে হবে এর উন্নতির কথা।’
 
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে বলার কিছু নেই। কারণ এই সংগঠনে যারা আছেন তারা আমাদের পরিবারের। তারা বাইরের কেউ না। তাদের উদ্দেশ্য ভালো হয়ে থাকলে অবশ্যই ভালো। আর অন্য উদ্দেশ্য থাকলে বিষয়টি দুঃখজনক। তবে ভালো কিছুর আশা আমরা সবাই করি।’
 
এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা নিশ্চুপ। এ নিয়ে তেমন কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমাদের গণতান্ত্রিক দেশ। যে কেউ সংগঠন করতে পারে। এটা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। তারা আগে কার্যক্রম শুরু করুক। ভালো কিছু হলে আমরা অবশ্যই পাশে থাকবো। কোনো বিরোধে আমার কখনোই নেই।’
 
সংগঠনের সংখ্যা কম না হলেও চলচ্চিত্রে দিকনির্দেশনা আসলে কারা দেবেন! চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের কাছে এটাই এখন মূল প্রশ্ন। তবে যাই হোক, দেশের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সবার এক হয়ে চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নেওয়াই হবে ইন্ডাস্ট্রির জন্য মঙ্গলজনক।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর