কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট খুলনার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে চাকরিতে যোগদান এবং যৌতুকের জন্য স্ত্রীর উপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে।
দুর্নীতির মাধ্যমে মঈনুল ইসলাম অঢেল অর্থ-সম্পদেরও মালিক হয়েছেন। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, যৌতুক ও প্রতারণার তিনটি মামলা করা হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তে অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদ থেকে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে প্রমোশন দিয়েছেন। বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নগরীর খানজাহান আলী থানার শিরোমণি এলাকার বাসিন্দা মঈনুল ইসলামের স্ত্রী সাউদিয়া আক্তার দোলন এসব অভিযোগ করেন।
একই সঙ্গে চাকরিতে যোগদান সম্পর্কিত তথ্য যাচাই-বাছাই এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত অঢেল অর্থ-বিত্তের উৎস খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্তের দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় সাউদিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী শেখ মঈনুল ইসলাম যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা গ্রামের বাসিন্দা আবুল হাসান শেখের ছেলে। কিন্তু সে তার স্থায়ী ঠিকানা গোপন করে নগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকায় স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে 'খুলনা জেলা কোঠায়' ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট খালিশপুর খুলনায় অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদে যোগদান করেন। অথচ কাস্টমসের ২০০৯ সালের ১৩ জুন পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যশোর জেলার কোন কোঠা ছিল না।
তিনি বলেন, ঠিকানা গোপনের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য প্রতারক মইনুল চাকরিতে যোগদানের মাত্র তিন মাসের মাথায় ২০১০ সালের ৪ এপ্রিল তার পিতা আবুল হাসান শেখের নামে খুলনার ফুলতলা উপজেলার আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের শিরোমণি মৌজায় মোটা অংকের অর্থে জমি ক্রয় করেন। ওই জমিকেই সে খুলনায় তার স্থায়ী ঠিকানা বলে প্রচার করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০০৬ সালের ১৮ আগস্ট মঈনুল ইসলামের সঙ্গে দোলনের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিনের মধ্যে সে নগদ পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক গ্রহণ করে। পরে বাড়ি করার কথা বলে আরও ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুক না পেলে সে তাকে তালাক দিয়ে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর তাকে নির্যাতন করে তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে পিতার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এর আগে ওষুধ সেবন করিয়ে তার গর্ভের সন্তানও নষ্ট করে সে। সর্বশেষ গত ১০ মার্চ সন্ত্রাসীদের এনে আবারও যৌতুকের টাকা দাবি করে হুমকি দেয়। তারপর থেকে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় মইনুল।
সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী দোলন জানান, মঈনুল ইসলামের এ ধরনের আচরণের কারণে নিরুপায় হয়ে তিনি খুলনার নালিশী আদালত 'খ' অঞ্চলে গত ১৪ মার্চ যৌতুক মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে খুলনার খানজাহান আলী থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় গত ২৪ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া স্থায়ী ঠিকানা গোপনের অভিযোগেও তিনি ৩০ আগস্ট খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। দুদক ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়েও তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া তার দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর খানজাহান আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মঈনুল ইসলামের চাকরিতে যোগদান সম্পর্কিত তথ্য যাচাই-বাছাই এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত অঢেল অর্থ-বিত্তের উৎস খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
ইত্তেফাক/জামান
