ইয়াবা ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বে স্কুলছাত্র খুন!

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৭, ২০:৩১
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর পূর্ব শৈলডুবী এলাকায় নিখোঁজের ২৬ দিন পর এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাইসহ তিনজন কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
 
নিহত স্কুলছাত্রের নাম সাইদুল ইসলাম (১৩)। সে সিটি কর্পোরেশনের শৈলডুবি এলাকার মো. সিরাজউদ্দিনের ছেলে এবং স্থানীয় শৈলডুবি ধানসিড়ি স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র।
 
গ্রেফতারকৃতরা হলো, নিহত সাইদুল ইসলামের বড়ভাই সাইফুল ইসলাম (১৭), একই এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে মনির হোসেন (২৭) ও মোহাম্মদ আলীর ছেলে হাসান সরকার (১৪)।
 
বুধবার দুপুরে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ তাঁর কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংএ এ তথ্য জানান।
 
পুলিশ সুপার জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর সাইদুল তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে সে আর বাড়িতে না ফিরলে নিহতের মা শিউলী বেগম ১০ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় একটি জিডি করেন। পরে উক্ত জিডি তদন্তকালে চক্রবর্তী পুলিশ ফাঁড়ির ইনর্চাজ এসআই মো. হারুন অর রশীদ গত ৩ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের বড়ভাই সাইফুলসহ মনির ও হাসানকে আটক করে।
 
পরবর্তীতে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, আটককৃত মনির হোসেন একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার কাছ থেকে ইয়াবা নিয়ে নিহতের বড়ভাই সাইফুল ওই এলাকায় বিক্রি করতো। অন্যদিকে মৃত সাইদুল ইসলাম অন্য আরেক জনের কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট এনে কাশিমপুর এলাকায় বিক্রি করতো। সাইদুলের কাছে এক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আছে এমন তথ্য পেয়ে চলতি গত ৮ সেপ্টেম্বর সাইদুলকে মোবাইল ফোনে বাগবাড়ি এলাকায় ক্যাপ ফ্যাক্টরির পিছনের জঙ্গলের রাস্তায় ডেকে নেয় অভিযুক্ত হাসান। পরে সাইদুল ওই স্থানে গেলে তার কাছে থাকা ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো দিতে বলে। এতে সে রাজি না হলে তাকে রাস্তা থেকে গভীর জঙ্গলে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলে। আটককৃতদের স্বীকারোক্তিতে বুধবার সকাল ছয়টায় পুলিশ নিহত সাইদুলের লাশ উদ্ধার করে।
 
এ বিষয়ে ভিকটিমের মা শিউলী বেগম বাদি হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের  দায়ের করেছেন।
 
চক্রবর্তী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই হারুন অর রশিদ জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে হাসান সরকার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত অপর দুই আসামিকে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
 

ইত্তেফাক/এএম।