বিয়ের দাবি আদায়ে শিউলির অনশন, অতঃপর সার্থক

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৭, ১৩:১৪
 
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ছোট খোচাবাড়ি গুচ্ছগ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনের তিনদিন পর সার্থক হয়েছেন শিউলি (২০) নামে এক তরুণী।
 
বৃহস্পতিবার ভোর রাতে তিনদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরে প্রেমিক ও প্রেমিকার বাড়ির লোকজনের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান পয়গাম আলী নিশ্চিত করেছেন।
 
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ছোট খোচাবাড়ি গুচ্ছগ্রামের মতিউর রহমানের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে শিউলীর সঙ্গে একই গ্রামের সফিকুলের ছেলে নেহারুলের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক। এক পর্যায়ে মেয়েটিকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় ছেলেটি।
 
পরে কোনো উপায় না পেয়ে মঙ্গলবার থেকে ছেলেটির বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয় মেয়েটি। পরে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলে অবস্থার বেগতিক দেখে ছেলেটি আত্মগোপন করেন। মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে মীমাংসার জন্য আলোচনা হয়। কিন্তু ছেলের পরিবার তা মেনে নিতে রাজি হয়নি।
 
বুধবার রাতে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশনে বসা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বৃহস্পতিবার রাতে এলাকাবাসী ও প্রশাসনের চাপে ছেলের পরিবার শিউলির সাথে বিয়ে দিতে রাজি হয়।
 
পরে কলেজ পড়ুয়া শিউলীর সঙ্গে প্রেমিক নেহারুলের উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে কাজী মোকলেস উদ্দিন দেন মোহর এক লাখ ২৫ হাজার টাকা ধার্য করে বিয়ে সম্পন্ন করেন।
 
শিউলী বলেন, নেহারুলের সাথে দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। সে আমাকে বিয়ের আশ্বাস দেয়। কিন্তু হঠাৎ সে আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে উপায় না পেয়ে তার বাড়িতে চলে আসি। তিনদিন পর অবশেষে আমাদের বিয়ে হলো।
 
ছেলে নেহারুল বলেন, শিউলীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সংসার চালানোর সক্ষমতা আপাতত না থাকায় পরে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শিউলী সেই কথা মানতে নারাজ হয়ে বাসায় চলে আসে। অবশেষে দুই পরিবারের সমঝোতায় বিয়ে হয়। ছেলের বাবা সফিকুল ও মেয়ের বাবা মতিউর রহমান বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন।
 
ইত্তেফাক/জামান