দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব হেসেন বিশ্বাসকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে নড়াইল জেলা প্রশাসকের বরাবর প্রেরিত এক পত্রে এ আদেশ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ নড়াইলের উপ-পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এর বিচারপতি আবু বক্কার সিদ্দিকীর বেঞ্চ নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন এবং নড়াইল পৌরসভার মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর বিশ্বাসসহ দণ্ডপ্রাপ্ত ৭জনকে ৬ মাসের জামিন মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর যশোরের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা নড়াইলের রুপগঞ্জ পশুর হাটের ইজারার টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে আসামিদের প্রত্যেককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ ৯৬ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে সোহরাব হোসেন বিশ্বাস নড়াইল পৌরসভার মেয়র ছিলেন। ওই সময় শহরের রূপগঞ্জ পশুহাট ইজারার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এইচএম সোহেল রানা পলাশ নামে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার ৬৬৫ টাকায় ওই হাটের ইজারা পান এবং তিনি দরপত্রের নিয়মানুযায়ী ব্যাংক ড্রাফট (বিডি) হিসেবে ৩৩ হাজার টাকা জমা দেন। পরে তিনি দরপত্র মূল্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে ইজারা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। ওই আবেদনে অপর আসামি তৎকালীন পৌর কমিশনার (বর্তমান মেয়র) জাহাঙ্গীর বিশ্বাসসহ ৬জন কমিশনার (কাউন্সিল) ও ভারপ্রাপ্ত সচিব সুপারিশ করেন এবং মেয়র হিসেবে সোহবার হোসেন তা মঞ্জুর করেন। এরপর ইজারা দাতাকে তার জমাকৃত টাকা ফেরত দেয়া হয়। একইসঙ্গে নতুন করে ইজারার আহ্বান না করে আসামিরা অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ওই হাট তিনবছর ধরে খাস দেখিয়ে এক লাখ ৯৬ হাজার টাকা আদায় করে তা আত্মসাৎ করেন।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত কার্যালয় যশোরের সহকারি পরিচালক ওয়াজেদ আলী বিশ্বাস ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট আটজনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
নড়াইল পৌর মেয়রসহ ৮জনের প্রত্যেকে ৭ বছরের করে সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ এবং ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬৫টাকাজরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, নড়াইল পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন, পৌর কাউন্সিলর শরফুল আলম লিটু, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আহম্মদ আলী খান, সাবেক পৌর কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমান বাচ্চু, সাবেক পৌর কাউন্সিলর তেলায়েত হোসেন বাবু, সাবেক পৌর কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম ও তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত সচিব মতিয়ার রহমান।
