মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে বেদেদের পুনর্বাসনের ভূমি পরিদর্শনে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন সামাজকল্যাণ সবিচ মো. জিল্লার রহমান। এ সময় স্থানীয় ও ভূমি মালিকরা জমি দিবেন না বলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সরকার বেদেদের পুনর্বাসনে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রায় ৫ একর জমির মধ্যে পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে হলদিয়া ইউনিয়নের মৌছামান্দ্রা মৌজার কারপাশা গ্রামে। এ পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তুলতে প্রাথমিকভাবে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকশ’ ভূমি মালিক প্রকল্প এলাকার রাস্তার উপর হাতে হাত ধরে মানববন্ধন করতে।
তারা বলেন, বেদেদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের অনেক জায়গা রয়েছে। তাছাড়া আমাদের ফসলি জমি দিয়ে দিলে আমরা কি করে খাবো। বেদেদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সাথে আমাদের কোন মিল নেই। এরা অধিকাংশই মাদকব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের এখানে পুনর্বাসন করলে আমাদের গ্রামগুলোতে এর প্রভাব পড়বে। বর্তমান গোলায়ীমান্দ্রা বেদে পল্লীর উত্তর দিকে অনেক জায়গা রয়েছে, তাদেরকে সেখানে অথবা পদ্মার চরে পুনর্বাসন করা যেতে পারে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সমাজকল্যাণ সচিব প্রকল্প এলাকায় পৌঁছলে প্রথমে তিনি স্থানীদের তোপের মুখে পড়েন। পড়ে তিনি প্রস্তাবিত এলাকাসহ বেদে পল্লী ও এর আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে তিনি স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে বলেন দেখে শুনে বেদের জন্য উপযুক্ত জায়গায় পুনর্বাসনের জায়গা নির্ধারণ করা হবে।
লৌহজং উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওসমান গণি তালুদকার বলেন, বেদেদের অবশ্যই পুনর্বাসন করতে হবে। তবে স্থানীয়সহ সব দিক বিবেচনা করে তা করতে হবে। যাতে করে কোন প্রকার খারাপ প্রভাব স্থানীয়দের মধ্যে না পরে।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী বেদেদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে খুবই আন্তরিক। সচিব মহোদয় দেখে গেছেন। এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
স্থানীয় হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক জানান, বেদেদের এখানে পুনর্বাসন করলে তা হবে এলাকার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এটি একটি অভিজাত এলাকা। বেদেদের জীবনযাত্রার সাথে এখানকার লোকজনের জীবনযাত্রায় অনেক অমিল রয়েছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাসহ সকল বিষয়ে এর প্রভাব পড়বে। তাদেরকে অবশ্যই পুনর্বাসন করতে হবে, তবে তা হতে হবে সকলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ঢালী মোয়াজ্জেম হোসেন. মাহাবুব তালুকদার, মো. রতন মৃধা, লিঙ্কন হাওলাদার প্রমুখ।
ই্ত্তেফাক/ আরকেজি
