গোবিন্দগঞ্জের এসিল্যান্ড নিহতের ঘটনায় ৫ বছর পর হত্যা মামলা

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৪

গত ৫ বছর আগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অবিদিয় মার্ডি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এনে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, তৎকালীন পুলিশ সুপার ও ডিবি’র ওসিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে এজাহার দায়ের করে জুডিশিয়াল তদন্তের আবেদন করেছে নিহতের পরিবার। 

নিহতের ভাই স্যামসন মার্ডি সোমবার গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই এজাহার দায়ের করেন। আদালতের বিচারিক হাকিম পার্থ ভদ্র এজাহার আমলে নিয়ে আগামী ১২ জুন শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ। উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন, তৎকালীন বিআরটিএ’র মহাপরিচালক, তৎকালীন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার, ডিবি’র ওসি, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, তৎকালীন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার। এছাড়া মামলায় স্থানীয় আরও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। 

গোবিন্দগঞ্জ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাড. মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গোবিন্দগঞ্জের তৎকালীন এসিল্যান্ড অবিদিয় মার্ডি ২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারি মোটরসাইকেল যোগে নওগাঁ জেলার ধামুরহাট এলাকা থেকে গোবিন্দগঞ্জে কর্মস্থলে আসছিলেন। পথে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটা-ফাঁসিতলা এলাকায় পৌঁছলে একটি সিএনজি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। 

এ ঘটনায় অবিদিয় মার্ডির স্ত্রী শেফালি বাদী হয়ে সিএনজি চালক ছানোয়ার হোসেনকে আসামি করে ওই বছরের ১৪ জানুয়ারি গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) গাইবান্ধার তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন সিএনজি চালক ছানোয়ারকে অভিযুক্ত করে বিগত ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। কিন্তু বাদী শেফালি বেগম অসন্তোষ ও আপত্তি উত্থাপন করে দাবী করেন অবিদিয় মার্ডিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাদী শেফালি বেগমের অভিযোগ, অবিদিয় মার্ডিকে মারধরের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশ সড়কে ফেলে রেখে দুর্ঘটনা বলে অপ্রচার চালানো হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, হাসপাতালের (ময়নাতদন্ত) দায়িত্বরত চিকিৎসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টরা হত্যাকারীদের সঙ্গে আঁতাত করে মিথ্যা চার্জশীট আদালতে দাখিল করেন। 

সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, বাদীর আবেদনের ভিত্তিতে সেই সময় আদালত নিহত অবিদিয় মার্ডির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু পুনরায় ময়নাতদন্ত কালে আবারো পূর্বের ফলাফল পাওয়া যায়। ফলে ওই মামলাটি এখনও চলমান আছে। বর্তমানে ওই মামলায় সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। 

আরো পড়ুন: হাত নেই, পায়েই ভরসা রাখছেন বিউটি

বর্তমানে আদালতে দাখিল করা এজাহারের বরাত দিয়ে (এপিপি) অ্যাড. মিজানুর রহমান জানান, বাদী নিহতের ভাই স্যামসন মার্ডির অভিযোগ, গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের জমি নিয়ে চিনিকলের বিরোধ ছিল। এছাড়া সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ বিগত ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে স্থগিত হওয়া ভোট কেন্দ্রের ফলাফল গণনা বিষয়ে অবিদিয় মার্ডিকে অনৈতিক কাজ করতে চাপ দেন। কিন্তু তাতে তিনি রাজি হননি। এসব কারণে অবিদিয় মার্ডির উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল কালাম আজাদ তার লোকজন দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।

এ বিষয়ে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। 

ইত্তেফাক/অনি