অনিরুদ্ধসহ ওরা তিন জন কি আর ফিরবে!

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৭, ০০:৩২

বেলারুশের অনারারি কনস্যুলার অনিরুদ্ধ কুমার রায়কে অপহরণের দেড় মাস পরও উদ্ধার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তাকে অপহরণ করার ঘটনায় দায়ের করা জিডির তদন্ত করে কোন কুল-কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। অনিরুদ্ধ অপহূত হওয়ার দিন সাভারের আমিনবাজারের বাসা থেকে বের হয়ে ফিরে আসেননি কল্যাণ পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান। এই দুই ঘটনার ৫ দিন আগে বিমানবন্দর সড়ক থেকে অপহূত হন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এবিএন গ্রুপের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ সাদাত আহমেদ (৪৫)। স্বজনদের আশঙ্কা এরা কি গুম হয়ে গেল! এদের পরিণতিও কি ইলিয়াস আলীদের মতোই হবে? কোন প্রশ্নেরই জবাব নেই।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান চলছে। পুলিশ তাদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। তাদের ব্যবসায়িক, পারিবারিক, রাজনৈতিক সব বিষয়েই খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। তাদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। নিখোঁজ হওয়া তিন পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন, পুলিশ চেষ্টা করলে তাদের উদ্ধার বা খুঁজে পেতে পারে।

গত ২৭ আগস্ট বিকালে বেলারুশের অনারারি কনস্যুলার ও আরএমএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়কে গুলশান এক নম্বরের পাশে ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে থেকে ডিবি পরিচয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা একটি মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে। অপরণের ঘটনায় তার ভাগ্নে কল্লোল রায় গুলশান থানায় একটি জিডি করেন।

অনিরুদ্ধ কুমার রায়ের প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার ইকবাল হোসেন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘স্যারকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। পুলিশ চেষ্টা করছে। আমরা ধারণা করছি, তাকে ফেরত পাওয়া যাবে।’

গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক গতকাল বলেন, তাকে উদ্ধারের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত তাকে উদ্ধারের বিষয়ে বলার মতো কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই করে আমরা কিছুই পাইনি।

একই দিন কল্যাণ পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান সাভারের আমিনবাজারের বাসা থেকে ফিরে আসেননি। তাকে উদ্ধারের দাবিতে কল্যাণ পার্টির নেতা-কর্মীরা গত বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ ঘটনায় তার ভাই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন থানায় জিডি করেছেন।

পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক ইত্তেফাককে বলেন, আমিনুর নিখোঁজের বিষয়টি তদন্ত করে কোন কুল-কিনারা হয়নি। তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই করেও কোন অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘তাকে উদ্ধারের ব্যাপারে সরকার বিশেষ করে পুলিশ চরম অসহযোগিতা করছে। আমি মনে করে রাষ্ট্রের সহযোগিতায় তাকে অপহরণ করা হয়েছে। এ কারণে তাকে উদ্ধারের ব্যাপারে পুলিশ কোন ভূমিকা রাখছে না।’

গত ২২ আগস্ট ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন কুর্মিটোলা হাসপাতাল এলাকায় বিমানবন্দর সড়ক থেকে সৈয়দ সাদাত আহমেদ অপহূত হন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। অপহরণের সময় তার ছেলে সৈয়দ মেহেদি জামান ও কাজের লোক ছিলেন। কান্টনমেন্ট থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

সৈয়দ সাদাত আহমেদের বাবা কর্নেল (অব.) সৈয়দ শাহাবুদ্দিন আহমেদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। সে নিখোঁজ হয়েছে নাকি তাকে অপহরণ করা হয়েছে-এ ব্যাপারে কোন উত্তর আমাদের কাছে নেই।’

ইত্তেফাক/নূহু