লালমনিরহাট জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন রয়েছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দখলে সবক’টি আসনই। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি (জাপা) তিনটি আসনেই জয়লাভ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ঈদ ও দুর্গোত্সব উপলক্ষে ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এছাড়াও আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে জনসংযোগ বৃদ্ধি করছেন। অনেকেই দলীয় প্রধানের ছবি ও নিজের ছবি সংবলিত ব্যানার হাট-বাজারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, জেলা শহর ও উপজেলা সদরসহ দর্শনীয় স্থানে টাঙিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অনেকেই দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তিনটি দলই আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ফলে জেলাজুড়ে এক ধরনের নির্বাচনী আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
স্বাধীনতার পর সব কয়টি আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছিল। ৭৫ এর পর এই আসন তিনটি বিএনপির দখলে চলে যায়। বিএনপির পর সব কয়টি আসনে জাতীয় পার্টি বিজয়ী হয়। শুধু একবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হোসেন বিজয়ী হয়েছিলেন। ৫ম সংসদীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি তিনটি আসনে বিজয়ী হয়। ৬ষ্ঠ সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। ৭ম সংসদীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি তিনটি আসনেই বিজয়ী হয়। ৮ম সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একটি আসনে, জাতীয় পার্টি একটি আসনে ও বিএনপি একটি আসনে বিজয়ী হয়। ৯ম সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একটি ও জাতীয় পার্টি দুটি আসনে বিজয়ী হয়। ১০ম সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩টি আসনে বিজয়ী হয়। একাদশ সংসদীয় নির্বাচন দলভিত্তিতে হলে তিন দলের মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। অপরদিকে জোট ভিত্তিক নির্বাচন হলে মহাজোট প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপির লড়াই হবে। দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রতিটি আসনে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। তারা দলের মার্কা পেতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইত্তেফাক/নূহু
