কিশোরগঞ্জে গত তিন বছরেও শেষ হয়নি জোড়া খুন মামলার তদন্ত

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৭, ০২:৩৫

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বড়ভিটা ইউনিয়নের জোড়া খুনের তদন্ত কার্যক্রম তিন বছরেও শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের তদন্তে মামলায় মূল আসামিরা বাদ পড়ায় পুলিশের চার্জশিটের বিরুদ্ধে অভিযোগ (নারাজী) করেছিল বাদীপক্ষ। ফলে মামলাটি বর্তমানে নীলফামারী ডিবি পুলিশের তদন্তাধীন। কিন্তু তিন বছর গত হয়ে গেলেও মামলাটির কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন মামলার বাদী।
 
মামলার এজাহার ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই বড়ভিটা ইউনিয়নের দক্ষিন বড়ভিটা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে খায়রুল ইসলাম(৩০) ও খায়রুলের বন্ধু মেলাবর গ্রামের শোধন বৈশ্যের ছেলে মৃনাল বৈশ্যর (৩২) লাশ পৃথক স্থান থেকে একই দিনে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় খাইরুলের পিতা আইয়ুব আলী মেলাবার গ্রামের নিরাশা বর্মনের ছেলে মিন্টু কুমার রায় (৩৩) ও বাবুপাড়া গ্রামের বিজেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে শ্রী জগত চন্দ্র রায় (৩৪) কে  আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিশোরগঞ্জ থানার মামলা নম্বর ১০ ।

জোড়া খন মামলার বাদী আইয়ুব আলী বলেন, খাইরুল ইসলামের বন্ধু মিন্টু কুমারের মাধ্যমে জগত চন্দ্র রায় ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর ৩শত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাদন নেয় আমার ছেলে খায়রুল ইসলামের কাছে। সেই টাকা পরিশোধ করার কথা বলে জগত চন্দ্র ও মিন্টু কুমার গত ২৬ জুলাই ২০১৪ সালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদেরকে জলঢাকার বড়ঘাট বাজারে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় খায়রুরের শাশুড়ি রাত ৯ টা ৪৫ মিনিটের দিকে তার মোবাইলে কল করলে খায়রুল শাশুড়িকে জানান তিনি এই মুহূর্তে বড়ঘাট বাজারে আছেন কিন্তু ঝামেলার মধ্যে আছেন।

ওই পর্যন্ত পরিবারের সাথে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়। পরের দিন ২৭ জুলাই তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রদান সেচখাল এলাকার দক্ষিন বড়ভিটা থেকে মৃনাল বৈশ্যের লাশ ও কিশোরগঞ্জ জলঢাকা সিমানার কাছে ৪শ গজ দুরে একই ক্যানেলের পানিতে ভাসমান অবস্থায় খায়রুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত খাইরুলের ডায়াং মোটর বাইকটি উদ্ধার করে বড়ভিটা টটুয়ার ডাংগার রাস্তা থেকে।

জোড়া খুনের মামলাটি কিশোরগঞ্জ থানার সাব ইন্সপেকটর শাহাজান আলী দীর্ঘ এক বছর চার মাস তদন্ত করে বাদীর এজাহার নামীয় আসামিদ্বয়কে বাদ দিয়ে বিন্যাকুড়ি মেম্বারপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে রাজু আহম্মেদ (২৮) বড়ডুমরিয়া তেলিপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে জগলুল ওরফে জগলুট, বড় ডুমরিয়া কাছারীপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আবু সায়েম (৩২) ও বিন্ন্যাকুড়ি শফিকুলের পাড়া নামক গ্রামের আজগার আলীর ছেলে আশিকুর রহমান (২২) কে অভিযুক্ত করে কোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

বাদীর অভিযোগ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাহান আলী এজাহার নামীয় আসামিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। তিনি তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আমলী আদালতে নারাজী করেন।

সংশ্লিষ্ট মামলার বিচারক বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য নীলফামারী ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দেন। ডিবি পুলিশের এস আই আব্দুস সোবাহানের কাছে মামলাটি তদন্তাধীন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাহান আলী বর্তমানে দিনাজপুর জেলার সদর থানায় কর্মরত। তাকে মোবাইলে কল করলে তিনি বলেন, মামলাটি আমি দীর্ঘদিন তদন্ত করেছি। তদন্তকালে জোড়াখুনের সাথে যাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল তাদেরকে অভিযুক্ত করে কোর্টে প্রতিবেদন দিয়েছি। আসামিদ্বয়ের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা।

বর্তমানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নীলফামারী ডিবি পুলিশের এস আই আব্দুস সোবহানের সাথে মামলার বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়ার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্ত কবে শেষ হবে প্রশ্ন করলে তিনি নির্ধারিত কোন তারিখ বলেননি।

ইত্তেফাক/নূহু