বৃক্ষ যেন হয়ে ওঠেছে বিহঙ্গ বৃক্ষ

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৭, ১৬:২৫
 
দিনের বেলা যে পাইকর গাছটি পাতায় ভরে থাকে, সন্ধ্যে হবার আগে থেকেই সেখানকার দৃশ্য যেন পাল্টাতে থাকে। লাখো চড়ুই পাখির কলকাকলিতে ওই গাছ ও আশে-পাশের ছোট বড় বিভিন্ন গাছ হয়ে ওঠে পাখির অভয়ারণ্য। ঔসব পাখিগুলোর কিচিরমিচির শব্দ সবার মনকে নিয়ে যায় অজানা এক আবেশে।
 
রবিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সদর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার উত্তরে বৈরাগীহাট নামক এলাকায় একটি কোল্ড স্টোরেজের সামনেই মাঝারি এক পাইকর গাছসহ ছোট কয়েকটি বড়ই ও মেহগনি গাছে লাখো চড়ুই পাখির বসবাস করছে।
 
IMG0
 
রাত্রি যাপনের জন্য পাখিদের কাছে এটা একটি নিরাপদ আশ্রয়। সন্ধ্যাবেলা গাছটির দিকে তাকালে মনে হয় শুধু পাখি আর পাখি। গাছের পাতার সবুজ রং ছাপিয়ে ফুটে ওঠে পাখির মেলা। যেন গাছের ডালে পাতা হয়ে ফুটে আছে লাখো চড়ুই পাখি। ভোর বেলা এই পাখিগুলো চলে যায় খাদ্যের সন্ধানে, আর দিনভর খাবার শেষে পড়ন্ত বিকেলে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে থাকে। গাছগুলো বড় না হলেও মাঝারি এবং ছোট ওই গাছগুলোকেই বেছে নিয়েছে পাখিরা। ওইসব পাখির ভারে রাতে গাছের ডালগুলো নীচের দিকে নুয়ে পড়ে। দর্শনার্থীরা কেউ আদর করে পাখির গায়ে ছুঁয়ে দিলেও নড়ে না। সেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় শত শত উৎসুক মানুষ পাখির দৃশ্য দেখতে ও কলকাকলিতে মন ভরাতে আসে। সারা উপজেলাতে চড়ুই পাখির আশ্রয়স্থল হিসেবে এখন ওই পাইকরবৃক্ষ কথা অনেকেরই মুখে মুখে হয়ে গেছে।
 
বৈরাগীহাটের স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত ও গর্বিত ঐসব চড়ুই পাখির সমারোহ দেখে। প্রতিদিন বিকেলে শত শত উৎসুক জনতা পাখিগুলো দেখার জন্য ভিড় করে। ওইসব পাখিগুলো সুন্দর প্রকৃতির ও এক অমূল্য সম্পদ। চড়ুই পাখিগুলোকে যাতে কেউ শিকার করতে না পারে। সে জন্য আমরা এখানে স্থানীয় দোকানদারগণ তাদেরকে দেখভাল করি।
 
কালাই উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, চড়ুই পাখিগুলো পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা, তথা কৃষি ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা রাখে। এরা ফসলের শত্রু পোকামাকড় খেয়ে ফেলে যথেষ্ট উপকার করে। ওইসব পাখি আমাদের বন্ধু। তাদেরকে রক্ষা করা সকল মানুষের দায়িত্ব।
 
ইত্তেফাক/জামান