মহাসড়কে ৬০ কিলোমিটারের নিচের গতির যানবাহন চলাচল না করার বিধান থাকলেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রতিনিয়ত তা মানা হচ্ছে না। ফলে সড়কটিতে দুর্ঘটনা একটি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিধানটি অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম-সচিব মো. কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত বিআরটিএ'র চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, "হাইওয়েস অ্যাক্ট, ১৯২৫ এর অধীনে প্রণীত মহাসড়ক (নিরাপত্তা, সংরক্ষণ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা), ২০০১'তে রয়েছে 'মহাসড়কে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার গতি নেই এমন কোনো মোটরযান চালনা করিবেন না।' বিধানটি যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দিতে নির্দেশ দেয়া হল।" একই সঙ্গে মন্ত্রীপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, মহাপুলিশ পরিদর্শক, হাইওয়ে রেঞ্জ পুলিশের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শককে চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে।
এই মহাসড়কটি দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় ২৪টি জেলার জনগণ যাতায়াত করে। ২৪ ঘণ্টাই চলে দূরপাল্লার বাস। বাথুলিতে সড়ক ও জনপথের ওজন মাপক যন্ত্র বসানো থাকলেও জরিমানা সিস্টেম চালু থাকায় বেশি ওজন পণ্যের ট্রাকগুলো জরিমানা দিয়ে পুনরায় চলে এই রুটে। ফলে ঘণ্টায় ট্রাকগুলো ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটারের উপর চলতে পারে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটিতে মেক্সি, লেগুনা, ট্রলি, ব্যাটারি চালিত রিক্সা-ভ্যান ইত্যাদি চলাচল করছে। তিন চাকাবিশিষ্ট ট্যাক্সি বা ভ্যানের বডির সঙ্গে স্যালোমেশিনের ইঞ্জিন ব্যবহার করে তৈরি করা হয় এ বাহন। স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই গাড়িগুলোর কোনো ফিটনেস নেই। ফলে বেপরোয়া গতিতে এগুলো ছুটে চলে। অহরহ ঘটায় দুর্ঘটনা। এতে আহত হওয়া ছাড়াও প্রায় প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটছে। আবার সর্বত্র ঘুরে বেড়ানো এ বাহনগুলো মাঝে মধ্যেই রাস্তার উপর বিকল হয়ে পড়ে। এতে দুর্ঘটনা ছাড়াও রাস্তায় সৃষ্টি হয় যানজট।
এই রুটে চলাচলকৃত দূরপাল্লার বাসের ড্রাইভাররা জানান, রুটটিতে ৬০ কিলোমিটারের নিচের গতি বেশি থাকায় তাদের একদিকে যেমন সময় অপচয় হচ্ছে অপরদিকে তারা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। মানিকগঞ্জ বিআরটিএ এর সহকারী পরিচালক মোবারক হোসেন জানান, আমরা মাঝে মধ্যেই এটি মনিটরিং করি প্রতিকারের জন্য জনবল কম থাকায় প্রতিনিয়ত দেখভাল করা সম্ভব হয় না। তিনি জানান, এজন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিআরটিএ একসাথে কাজ করলে এটি সম্ভব।
গোলড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান জানান, ৬০ কিলোমিটারের নিচে গতির গাড়িগুলো হাইওয়েতে উঠলে আমরা তাদেরকে জরিমানার আওতায় নিয়ে আসবো। মানিকগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, আদাদের নজরের বাইরে অনেক সময় এই যানগুলো হাইওয়েতে উঠে পড়ে। আমাদের নজরে আসলে আমরা ওই সব গাড়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ইত্তেফাক/জামান
