ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই সাভারে রোগাক্রান্ত পশু জবাই

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৭, ১১:৩৩
সাভার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট বাজারে নেই নির্দিষ্ট কোনো গবাদি পশু জবাইখানা। যত্রতত্র রাস্তার পাশে পশু জবাই করে দূষিত করে তোলা হচ্ছে সেখানকার পরিবেশ। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। ‘যত্রতত্র পশু জবাই করা যাবে না’- এ ব্যাপারে সরকারি গেজেট হলেও এ আইন মানছে না ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে বিভিন্ন হাট বাজারে ও পাড়া মহল্লায় ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই রোগাক্রান্ত গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ জবাই করে দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে।
 
সাভার পশু হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গবাদি পশুর শরীরে জলাতঙ্ক, হাম, ক্যান্সার, গুটি বসন্তসহ বিভিন্ন রোগ থাকতে পারে। এসকল রোগ পরীক্ষা ছাড়াই গবাদি পশু জবাই করা এবং বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু সরকারি এ আইনকে অমান্য করে সাভার পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গবাদি পশু জবাই করা হচ্ছে। আইনটি প্রয়োগের দায়িত্ব পশু সম্পদ ও স্বাস্থ্য বিভাগের হলেও এ ব্যাপারে তাদের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। এক শ্রেণির অসাধু মাংস ব্যবসায়ী বয়স্ক ও রোগাক্রান্ত পশুর মাংস হাটে-বাজারে অবাধে বিক্রি করছে। অনেক মাংস বিক্রেতা ক্রেতার আস্থা অর্জনের জন্য নিজেরাই পশুর শরীরে সত্যায়িতকরণের জাল সিল মেরে মাংস বিক্রি করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় মৃত পশুর মাংস কমমূল্যে বিক্রি করে থাকে অসাধু এ চক্রটি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে।
 
সাভার পৌরসভাসহ উপজেলার কোনো স্থানেই গরু ছাগল জবাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। তাই ব্যবসায়ীরা যেখানে সেখানে পশু জবাই করে থাকে। বিশেষ করে রাস্তার ধারে কিংবা মহল্লায় পশু জবাইয়ের ফলে দুর্গন্ধে লোকজনের চলাচলের সমস্যাসহ পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এছাড়া পশু জবাইয়ের নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় জবাইকৃত পশুর বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলার কারণে পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে।
 
সাভার উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, কসাইরা রোগাক্রান্ত পশু জবাই করছে কিনা তা দেখভাল করে জবাইকৃত পশুর গায়ে সিল মারার দায়িত্ব উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের।
 
এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সিনিয়র ভেটেনারি ফিল্ড অফিসার মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, সাভার পৌরসভাসহ উপজেলার কোথাও নির্ধারিত কোনো কসাইখানা নেই। ফলে জবাইকৃত পশু পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, নির্দিষ্ট কসাইখানা না থাকায় যত্রতত্র জবাইকৃত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যে জনবল দরকার তাও দপ্তরের নেই। সাভার বাজারে একটি কসাইখানা থাকলেও পৌরসভার আর কোথাও যে কসাইখানা নেই তা স্বীকার করেছেন সাভার পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পীযূষ কান্তি সরকার ।
 
জরুরিভিত্তিতে সাভার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গবাদি পশু ডাক্তারি পরীক্ষা করে জবাই এবং নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাইয়ের জন্য  কসাইখানা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সাভারবাসী।
 
ইত্তেফাক/এমআর