দুপচাঁচিয়ায় বখাটের উৎপাতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৭, ১৫:৫৩
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় বখাটের উত্ত্যক্ত আচরণ সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এক মেধাবী স্কুল ছাত্রী। এঘটনায় উত্ত্যক্তকারী বখাটেকে আটক করতে গিয়ে গ্রামবাসীর হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এতে পুলিশের ৫জন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। পুলিশ এই হামলার ঘটনায় ২৬ জনকে আটক করলেও বখাটে যুবককে আটক করতে পারেনি। রবিবার দিবাগত রাতে এসব ঘটনা ঘটেছে।
 
ঘটনার শিকার রুজিফা আকতার সাথী উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের গোলাম রব্বানীর মেয়ে। স্থানীয় জিয়ানগর হাইস্কুলের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী। ক্লাসে যার রোল নং ছিল ০১।
 
স্থানীয়রা জানায়, প্রাথমিক থেকে এ পর্যন্ত ক্লাসে বরাবরই প্রথম হয়ে এসেছে জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী রুজিফা আকতার সাথী। পিএসসি ও জেএসসিতে ভালো ফল করার পর জিয়ানগর গ্রামের এই মেধাবী মুখের লক্ষ্য যখন সামনে আরও ভালো ফল করা, তখন সেই স্বপ্নে কালো শকুন হয়ে আসে পাশের হেরুঞ্জ গ্রামের আমিনুর রহমানের বখাটে ছেলে হুজাইফা ইয়ামিন (২০)। 
 
মেয়েটির পরিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বখাটের পরিবারের শরণাপন্ন হয়েও গত তিনমাসে থামাতে পারেনি স্কুলপথে দাঁড়িয়ে বখাটে হুজাইফার উত্ত্যক্ত করা। শেষমেষ রবিবার প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফেরার পথে বখাটের অশোভন আচরণ সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় রুজিফা আকতার সাথী (১৪) নামের ঐ স্কুল ছাত্রী।IMG0
 
সাথীর বাবা গোলাম রব্বানী  জানান, তিন মাস ধরে বখাটেপনার দায়ে স্থানীয় বিয়াম স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া হুজাইফা সাথীকে উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি কয়েক দফা হুজাইফার পরিবার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েও কোনো ফল হয় নি। বাধ্য হয়ে পুলিশে অভিযোগ করতে চেয়েছিলেন গোলাম রাব্বানী। কিন্তু তার আগেই চলে এলো তার জীবনের নিষ্ঠুর সময়।
 
ঘটনার পর পুলিশ স্থানীয় বাজারে হুজাইফাকে আটক করতে গেলে হামলা করে তার স্বজনরা। পরে রবিবার রাতেই ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে ২৬ জনকে আটক করে পুলিশ। কর্মকর্তারা জানান, সাথীকে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে হুজাইফা ও তার বাবা আমিনুর রহমানকে আসামি করে রাতেই মামলা করেছেন সাথীর বাবা গোলাম রাব্বানী।
 
দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে  জানান, আত্মহত্যার খবর পেয়ে রবিবার (০৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৮টার দিকে রাজিফা আকতার সাথীর মরদেহ উদ্ধার করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। যথা নিয়মে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বখাটে হুজাইফ ইয়ামিনকে (২০) আটক করতে রাতেই হেরুঞ্জ গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এসময় বখাটের স্বজনরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে পুলিশের ৫জন কর্মকর্তা আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে রাতে আবারও ওই গ্রামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ২৬জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তবে ওই বখাটেকে এখনও আটক করা যায়নি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 
 
ওসি আব্দুর রাজ্জাক আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য সাথীর মরদেহ সোমবার সকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দু’টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। 
 
ইত্তেফাক/এমআই