বাঁশখালীর গণ্ডামারা ব্রিজ যেন মরণ ফাঁদ

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৭, ১৩:১৭
 
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় গণ্ডামারার উপকূলীয় এলাকায় আশরাফ আলী রোড সংলগ্ন বেইলি ব্রিজটি যেন মরণ ফাঁদ হয়ে গেছে। জরাজীর্ণ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় ব্রিজটির পাটাতনগুলো নিয়ে যাচ্ছে এলাকার দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে যোগাযোগের জন্য যে পাকা ব্রিজটি রয়েছে তারও দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে জনগণের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
 
বর্তমানে এই ব্রিজ দিয়ে বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সর্ব সাধারণসহ এস আলম কয়লা বিদ্যুতে নিয়জিত চীনা এবং বাংলাদেশি কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে। কিন্তু যেকোনো মুহূর্তে এই ব্রিজে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণ হানির মত ঘটনা। বহু বছর পূর্বের স্টিল ব্রিজটি চলাচলের অযোগ্য হওয়ার পর সবাই বর্তমান পাকা ব্রিজ দিয়ে একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যমে হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। একদিকে ব্রিজের দুই পাশের মাটি সরে যাওয়া, গণ্ডামারার অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোর বেহাল দশা, সবমিলিয়ে এক প্রকার দুর্ভোগের মধ্যে এ এলাকার জনগণ চলাচল করছে।
 
১৯৯৬ সালে কোটি টাকা ব্যয়ের মাধ্যমে বাঁশখালী জলখদর খালের উপর নির্মিত গণ্ডামারা বাজার সেতু নামে এলাকার জনগুরত্বপূর্ণ বিবেচনা করে উপকূলের সাথে পূর্বাঞ্চলের জনগণের যোগাযোগ রক্ষার্থে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকার মধ্যে অন্যতম গণ্ডামারায় প্রচুর পরিমাণে লবণ ও চিংড়ি হয়ে থাকে। প্রতিবছর হাজার হাজার টন লবণ এই গণ্ডামারায় উৎপাদন হয়। এই ব্রিজের উপর দিয়ে লবণ পারাপার করতে গিয়ে ব্রিজের পাটাতনগুলো নষ্ট হয়ে যায়। অপরাপর যন্ত্রাংশগুলো ঠিক মত থাকলেও নিচের পাটাতনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা ভেঙে পড়ে।
 
অপরদিকে এই ব্রিজের দক্ষিণ পাশে আরেকটি ব্রিজ নির্মিত হলেও ওই ব্রিজের উঠা নামার সংযোগস্থলে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। বিগত এক বছরে এই ব্রিজের মধ্যে গাড়ি পারাপারে উল্টে গিয়ে শতাধিক লোক আহত হয়েছে বলে জানা যায়। ফলে স্থানীয় জনগণ গণ্ডামারা বাজার ব্রিজটি নষ্ট হয়ে যাওয়া পাটাতনগুলো পুনরায় ঠিক করে তা চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য আহ্বান জানান। এই ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর কোন বড় ধরনের বরাদ্দ পাইনি পেলে ব্যবস্থা করব।
 
উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, শীলকূপ থেকে গণ্ডামারা বাজার পর্যন্ত রাস্তার টেন্ডারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জানান, খুব শীঘ্রই ব্রিজের সাথে রাস্তার সংযোগ স্থাপনের কাজ সংস্কার কাজ করা হবে। অন্যদিকে এস,আলম কয়লা  বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেও এই এলাকার অবকাঠামো গত কোন উন্নয়ন নেই।
 
ইত্তেফাক/জামান