বর্ণবাদী আচরণের শিকার অসি ব্যাটসম্যান উসমান খাজা

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৭, ২০:৩৩
ব্যাটসম্যান উসমান খাজা মনে করেন অস্ট্রেলিয়াতে বর্ণবাদী আচরণের মাত্রা আগের চেয়েও বেড়েছে। যে কারণে জাতীয় দলের নির্বাচন প্রক্রিয়ায়ও তাকে পাশ কাটানো হচ্ছে।
 
শিশু বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হওয়া ৩০ বছর বয়সী এই পাকিস্তানীকে জাতীয় দলে জায়গা পেতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। এখন অবশ্য তিনি অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
 
তবে তার এই যাত্রাপথটি খুব একটা সহজ ছিল না। প্লেয়ার্স ডট কমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে খাজা বলেছেন, শিশু কাল থেকেই তিনি বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার স্পোর্টিং দল থেকেও তিনি একই আচরণের শিকার হচ্ছেন। 
 
খাজা বলেন, ‘মাঠে খেলার সময় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা সব সময় তাকে দেখে স্লেজিং করতো। তাদের পিতা মাতাও মনে করত এটি একটি আদর্শ বিষয়। মাঝে মধ্যে তারা এমন ভাষা ব্যবহার করতো যেটি শুনতেও কষ্ট হতো। 
 
আমি এখনো এমন স্লেজিং শুনি। তবে কখনো প্রতিক্রিয়া দেখাই না। রান করার সময় এমনটি বেশি ঘটে। যে কারণে আমার অস্ট্রেলিয়ার বাইরে জন্ম নেয়া বন্ধুর সংখ্যা বেশি। যারা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়াকে সমর্থন দেয় না।’
 
এই বর্ণবাদী আচরণের শিকার হবার কারণেই নিজেকে আরো বেশি শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলেছে উল্লেখ করে খাজা বলেন, তবে সেটি যখন অসি দল থেকে করা হয় তখন বর্বর মনে হয় এবং আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরায়। কিছু কিছু লোক আছে যারা আমার বেড়ে ওঠা নিয়ে কটাক্ষ করে স্লেজিং করে। ’
 
নিজের বয়স বাড়ছে জানিয়ে খাজা বলেন, অস্ট্রেলিয়াও এগিয়ে যাচ্ছে। আর আমি এখন বুঝতে পারছি একজন অভিবাসি হবার কারণে আমাকে সেভাবেই বিবেচনা করা হবে অস্ট্রেলিয়ায়। হাই স্কুলে পড়ার সময় থেকেই আমি ছিলাম অস্ট্রেলিয়ার একজন কট্টর সমর্থক। কিন্তু মাঝপথে এসে সেটি ধ্বংস করে দিল। এটি যে শুধু আমার ক্ষেত্রে হচ্ছে তা নয়, অন্য শিশু অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও হচ্ছে। অথচ তারা অস্ট্রেলিয়ার হয়েই খেলতে চায়। তাদের এত বেশি নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হচ্ছে যে, তারা আর এখানকার হয়ে ব্যাট হাতে নিতে আগ্রহবোধ করে না। অথচ একসময় তারা স্বপ্ন দেখতো অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার।’
 
এশীয়ার একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে খাজা অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটারের মর্যাদা পেলেও, সেখানকার ক্রিকেটের বর্ণবাদী মনোভাব দীর্ঘদিনের। খাজা বলেন, ‘অতীতেও এখানে যে একটি বর্ণবাদী কার্যক্রম ছিল সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। আমি শুনেছি অনেক ভিনদেশী প্লেয়ারদের সঙ্গেও এমন আচরণ করা হয়েছে। যে কারণে কালের বিবর্তনে তারা হারিয়ে গেছে।’
 
খাজা বলেন, দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট এবং সোসাইটি। তাদের এখন ক্রিকেটারদের বিষয়ে আরো সহজ হওয়া দরকার। যাতে সব ব্যাকগ্রাউন্ডের খেলোয়াড়রা সুযোগ পায়।’ বাসস।
 
ইত্তেফাক/রেজা