আধুনিক প্রযুক্তির কারণে আগের মত পত্র আদান-প্রদান করতে পোস্ট অফিসে যেতে হয় না। এ কারণে ঝিমিয়ে থাকা ডাকঘরগুলো আধুনিকায়ন করতে সরকার পোস্ট ই-সেন্টার চালু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় পোস্ট অফিস আধুনিকায়ন করা হলেও বাস্তবে রূপ নেয়নি রাঙ্গাবালী উপজেলার ডাকঘরগুলো।
একদশক আগেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এ উপজেলার মানুষ ডাকঘরের মাধ্যমে পত্র আদান-প্রদান করত। কিন্তু মোবাইল, ই-মেইল, ফেসবুকসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর হয়ে যাচ্ছে মানুষ। তাই এখন আর পোস্ট অফিসে তেমন কার্যক্রম না থাকায় তাদের নিজস্ব কার্যালয় পর্যন্ত নেই। ব্যবসায়ী দোকানে চালানো হয় ডাকঘরের কার্যক্রম। এরফলে ডাকঘরে ই-সেন্টার চালু করা হলেও সন্তোষজনক কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সোমবার সরেজমিনে ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
উপজেলা সদর রোডে বাহেরচর ডাকঘরের অস্তিত্ব হিসেবে পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ একটি ডাকবাক্স রয়েছে। তাও অবহেলা-অযত্নে পড়ে রয়েছে। ওই ডাকঘরটির কার্যক্রম চলছে পার্শ্ববর্তী ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চতলাখালী বাজারে পোস্ট মাস্টার আব্দুর রাজ্জাকের মুদির দোকানে। অপরদিকে উপজেলার আরেকটি ইউনিয়ন চরমোন্তাজ, সেখানে ডাকঘরের কার্যক্রম চলছে পোস্ট মাস্টার মনিরুল ইসলামের ওষুধের দোকানে।
জানা গেছে, উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়নে তিনটি, ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নে দুইটি, বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে একটি, চরমোন্তাজ ইউনিয়নে একটি ও চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে একটি ডাকঘর রয়েছে। এরমধ্যে চারটি ডাকঘরে পোস্ট ই-সেন্টার চালু করা হয়েছে। ২০১৩ সালে ডাক বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং সেল থেকে উপজেলা ডাকঘরের জন্য দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছে। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার চার বছরেও সেই ডাকঘরের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল পটুয়াখালী কার্যালয়ের পশ্চিম উপ-বিভাগের ডাকঘর পরিদর্শক আবু সালেহ মোহাম্মাদ মুছা জানান, ‘স্বেচ্ছায় কেউ জমি না দেওয়ায় ডাকঘরের জন্য ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই অনেকেই দোকানে বসে কাজ করে। সব জায়গায়ই পোস্ট ই-সেন্টারের কাজ চলার কথা। আমরা সবাইকে পোস্ট ই-সেন্টারের জন্য সাইন বোর্ড দিয়েছি। তাদেরকে সাইন বোর্ডগুলো লাগানোর জন্য বলবো।’
ইত্তেফাক/নূহু
