নরসিংদীতে তানভির আহমেদ খান হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে জেলা শহরের বীরপুর ও ব্রাহ্মন্দী এলাকা থেকে তাদের আটক করে। এবার স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা ও চট্ট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন তানভির।
আটককৃতরা হল- বীরপুর এলাকার মো. আসাদ মিয়ার ছেলে আল আমিন (১৯), ছাত্তার মিয়ার ছেলে সাগর (২১), সেন্টু দাসের ছেলে হৃদয় দাস (১৯) ও পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকার আব্দুস ছাত্তার মিয়ার ছেলে মাকসুদুর রহমান সাদি। তবে ৪ জনের মধ্যে আল আমিন ও সাগরকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। হৃদয় ও সাদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের সদস্যরা শহরের বীরপুর এলাকা থেকে তানভির হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে আল আমিনকে আটক করে। পরে তাকে ভৈরব রেলওয়ে থানায় প্রেরণ করলে সেখানে সে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং অপর ৩ সহযোগীর নাম প্রকাশ করে। আল আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ তাকে সাথে নিয়ে শুক্রবার গভীর রাতে সাগর, হৃদয় ও সাদিকে আটক করে।
পুলিশ আরও জানায়, আল আমিন ও সাগর আদালতে ১৬৮ ধারায় ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, নিহত তানভির বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে নরসিংদী রেলস্টেশন যাওয়ার পথে শহরের বীরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এলে গ্রেফতারকৃত আল আমিন ও সাগর তার কাছে থাকা মোবাইল ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তানভির ছিনতাইকারীদের চিনে ফেললে সাগর তাকে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ছিনতাইকারীরা তার লাশ রেল লাইনের পাশে ফেলে রেখে মোবাইল ও ব্যাগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মজিদ বলেন, রেলওয়ে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে ৪ জনকে আটক করলেও ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকায় দু’জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
