রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত তরল রাসায়নিক পদার্থ (তরল মেটারিয়ালস) পান করে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ্ হয়েছেন আরও ৬জন। এদের মধ্যে চারজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অপর দুইজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়।
নিহতরা হলেন- উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের চব্বিশনগর ডাইংপাড়া গ্রামের মৃত তোফিজুল ইসলামের ছেলে বকুল হোসেন (৩৮), ইউসুফ আলীর ছেলে তোহিজুল ইসলাম (২৫) ও সিরাজুল ইসলামের ছেলে দুলাল হোসেন (২৫)।
তারা সবাই রাজশাহী নগরীর সপুরা বিসিক শিল্পনগরীর ‘টিম ফার্মাসিটিক্যাল’ নামের একটি ওষুধ কারখানার শ্রমিক বলে জানান গোদাগাড়ী থানার ওসি হিপজুর আলম মুন্সি।
ওসি জানান, তারা মঙ্গলবার কাজ থেকে ফেরার সময় ওই কারখানা থেকে বোতলে করে ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ (তরল মেটারিয়ালস) নিয়ে যান। রাতে তারা কোমল পানীয়র সঙ্গে মিশিয়ে সেগুলো পান করেন। এরপর থেকে তারা একেএকে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বুধবার তারা কয়েক দফায় বমিও করেন। রাতে তারা বেশি অসুস্থ্ হয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার ভোরে ৯জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এদের মধ্যে দুইজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। অপর ৭জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জালাল উদ্দিন বলেন, বিষক্রিয়ায় তারা অসুস্থ্ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে দুইজনকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। আর একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে কোন ধরণের বিষক্রিয়ায় তারা অসুস্থ্ হন তা পরীক্ষা পরে বলা যাবে।
রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, কারখানায় কাজের সময় শরীরে শক্তি অর্জনের জন্য এরআগেও তারা ওই রাসায়নিক পদার্থ পান করেছিলেন। কিন্তু এবার তারা বোতলে ভরে চুরি করে ওই পদার্থ বাড়ি নিয়ে আসেন। পরে কোমল পানীয়তে মিশিয়ে পান করেন। ধারণা করা হচ্ছে কোমল পানীয়তে মেশানোর কারণে সেটি বিষাক্ত হয়ে যায়।
ইত্তেফাক/ আরকেজি
