নিবন্ধিত হলে খাবারসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে দেখে নিবন্ধন কেন্দ্রে ভীড় জমাচ্ছেন রোহিঙ্গারা। এতে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার)পর্যন্ত এক মাসে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা নিবন্ধনের আওতায় এসেছে। আরো গতি বাড়াতে চলমান ৬ কেন্দ্রের সাথে আগামী সপ্তাহে যুক্ত হচ্ছে আরো ২টি অতিরিক্ত কেন্দ্র। এতে ৮ কেন্দ্রে প্রতিদিন ২০ হাজার রোহিঙ্গা নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নিবন্ধনের আওতায় আসা আশ্রিত এসব রোহিঙ্গারা বায়োমেট্রিক পদ্ধতির পরিচয়পত্র পেয়েছে।
নিজ দেশে নিপীড়নের শিকার হয়ে আশ্রয়ের আশায় বাংলাদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়। তখন রোহিঙ্গারা এতে আগ্রহ দেখায়নি। এসময় সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা ছিল অনিবন্ধিত কেউ কোন সুযোগ সুবিধা পাবে না। সেনাবাহিনী ত্রাণ বিতরণ ও অন্যান্য সহযোগিতা চালু করার পর সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন দেখে ধীরে ধীরে রোহিঙ্গারা নিবন্ধন কার্যালয়ে আসতে শুরু করে। যা ক্রমে বাড়ছে।
এদিকে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন কার্যক্রম চালাচ্ছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্ট অধিদফতরের এমআরপি প্রজেক্ট। আর সেনাবাহিনী এবং বিজিবি টেকনিক্যাল টিম, সিকিউরিটিতে আনসার, আরআরআরসি, আইওএম, ইউএনএইচসিআর এতে সহযোগিতা দিচ্ছে। এ কার্যক্রমে সরকারের ৪টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩শ’ জনবল কাজ চালাচ্ছে। নিবন্ধনে ১৪ বছরের নিচে কাউকে নেয়া হচ্ছে না। ১৫ থেকে সর্বোচ্চ বয়সী সবাই নিবন্ধনের আওতায় আসছে।
নিবন্ধন কার্যক্রমে দায়িত্বরত কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান বলেছেন, বুধবার পর্যন্ত ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৩২ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে গড়ে প্রতিদিন ১০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা নিবন্ধনের আওতায় আসছে। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ এটি এক লাখ চল্লিশ হাজার দাঁড়াবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
