ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতচক্র প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে বলে পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কিন্তু জালিয়াতি করা পরীক্ষার্থী ধরা পড়লেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন প্রশ্ন ফাঁসের সেই মূল হোতারা।
শুক্রবার বিজ্ঞান অনুষদভূক্ত ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ইলকট্রনিক ডিভাইসসহ ১২ পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষা ও ডিভাইসসহ দুইজনকে আটক করা হয়।
প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ক ইউনিটের পরীক্ষার সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামান জানান, পরীক্ষার ১০-১৫ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র খোলা হয়। এ সময় হয়তো কোনো অসাধু শিক্ষক-কর্মকর্তা ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নের কপি বাইরে পাঠিয়ে দিতে পারেন। এই অসাধু শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে জালিয়াত চক্রের সুসম্পর্ক রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেন্দ্রে পরীক্ষার দায়িত্বরত শিক্ষক-কর্মকর্তা প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকতে পারে।
এদিকে, ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষার হলে সর্ব প্রকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ করেছেন। পরীক্ষার্থীরা যেনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য প্রত্যেকটা কেন্দ্রে মেটাল ডিটেক্টটর ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরীক্ষার্থীরা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করছে।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যপক এম আমজাদ আলী ইত্তেফাককে বলেন, মেটাল ডিটেক্টটর দেয়া হয়েছে। কিন্তু যারা চেক করে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করান তাদের উদাসীনতা রয়েছে।
অন্যদিকে, জালিয়াতি করা কিছু পরীক্ষার্থী আটক হলেও প্রশ্নফাঁসের মূল হোতাদের আটক করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামান জানান, আটককৃতদের রিমান্ড নেয়া হলে সব তথ্য পাওয়া যাবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত জালিয়াতি করা পরীক্ষার্থীকে সাজা দিচ্ছে। কিন্তু মূল হোতারা সাজা পাচ্ছে না বলে বারবার জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের কোনোরকম ছাড় দেয়া হবে না।
ইত্তেফাক/ইউবি
